জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের রাজধানীর উত্তরার বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত তার বাসার সামনে একদল লোক মিছিল নিয়ে এসে এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে জি এম কাদের বলেন, সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ৫০ থেকে ৬০ জনের একদল যুবক মিছিল নিয়ে এসে তার বাসার সামনে হইচই শুরু করে এবং উসকানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। তিনি জানান, “বাড়ির গেট বন্ধ থাকায় তারা ভেতরে ঢুকতে পারেনি। বাইরে থেকে বাসায় ঢিল ছোড়া শুরু করেন। এতে বাড়ির সামনের জানালাসহ বিভিন্ন কাচ ভেঙে যায়।”
জি এম কাদের আরও জানান, হামলাকারীরা তার নাম ধরে গালিগালাজ করাসহ ‘শেখ হাসিনার দালালেরা এবং ভারতের দালালেরা হুঁশিয়ার, সাবধান’ ও ‘ভারতের এবং আওয়ামী লীগের দালাল’ বলে নানা স্লোগান দেয়। তিনি বলেন, “পরে পুলিশ ও অন্যান্য লোকজন আসায় মিছিলকারীরা চলে যায়। কেন হঠাৎ করে এই হামলা তা আমি জানি না।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য
হামলার খবর পেয়ে ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর (এশিয়া পোস্টকে দেওয়া বক্তব্যে) জানান, খবর পেয়ে পুলিশের দল জিএম কাদেরের বাসার সামনে গিয়ে কাউকেই পায়নি।
তিনি আরও বলেন, “এ হামলা কারা ঘটিয়েছে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত তা এখনো সনাক্ত করা যায়নি। তবে, বাসা লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি, এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।”
একই কথা জানান পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার রেজাউল করিম। তিনি উল্লেখ করেন, খবর পেয়ে পুলিশ যাওয়ার আগেই হামলাকারীরা সেখান থেকে সটকে পড়ে। তবে ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
জাপার জরুরি সংবাদ সম্মেলন ও দেশব্যাপী কর্মসূচির হুঁশিয়ারি
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বাসভবনে এই হামলার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জাপা। এতে দলটির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, এটি কেবল ভাঙচুর নয়, বরং দলীয় প্রধানকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো একটি ষড়যন্ত্র বা চেষ্টা। দেশে বারবার ‘মব কালচারের’ ঘটনা ঘটলেও সরকার তা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি এবং রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক সহাবস্থান নিশ্চিতের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জাপা মহাসচিব জানান, সকালে একদল লোক মিছিল নিয়ে এসে জিএম কাদেরের বাসার দিকে ইটপাটকেল ছুড়লে জানালার কাচ ভেঙে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তিনি জানান, সিসিটিভি বা ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের চেনার চেষ্টা চলছে এবং উত্তরা পশ্চিম থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে জিডি ও মামলা করা হবে। তবে ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা ও তারা সত্যি মামলা গ্রহণ করবে কি না—তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্তদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছে জাতীয় পার্টি। এই বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সারা দেশে বড় ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন মহাসচিব। একই সাথে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে দলীয় ফোরামে আলোচনা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, এই হামলার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে সোমবার বাদ আসর দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ডাক দিয়েছে জাতীয় পার্টি।
পড়ুন : ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু ২১ জানুয়ারি, ৫ ধাপে হবে ভোট: ইসি সানাউল্লাহ
সা/


