অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘গ্রামীণ কল্যাণ’-কে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১২ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ১৫ পাতার এই রায়ে গ্রামীণ কল্যাণকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই বকেয়া কর পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেছিলেন। সে সময় রায়ে বলা হয়েছিল, পরবর্তী ৩ অর্থবছরের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে এই ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।
মামলার পটভূমি ও বিচারিক প্রক্রিয়া
২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ এবং ২০১৬-১৭—এই পাঁচ করবর্ষের আয়কর পুনর্মূল্যায়নের পর গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এনবিআর কর দাবি করলে ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি দুটি পৃথক রিট পিটিশন দায়ের করে। তখন প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেছিলেন।
তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত ৪ অক্টোবর বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিতভাবে পূর্বে প্রদত্ত রায় প্রত্যাহার করে নেন। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতির নিকট নথি পাঠানো হলে মামলাটি একটি নতুন বেঞ্চে স্থানান্তর করা হয়। সম্প্রতি নতুন হাইকোর্ট বেঞ্চ পূর্বের রুল খারিজ করে রায় দেন, যার ফলে এনবিআরের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ওই বকেয়া আয়কর আদায়ের আইনি পথ উন্মুক্ত হয়।
এদিকে, দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি থাকা মায়েদের সাথে বর্তমানে ৩০৩টি শিশু রয়েছে বলে হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি’র মাধ্যমে এই শিশুদের খেলনা, পোশাক এবং পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী প্রদানসহ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। একই সাথে শিশুদের সঠিক বিকাশ ও পরিচর্যার স্বার্থে তাদেরকে পছন্দের নিকটাত্মীয় কিংবা সরকারি শিশু পরিবারে রাখার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর।
আইনি পদক্ষেপ ও কারাগারের পরিসংখ্যান
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ দীপার করা এক রিট পিটিশনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বন্দি মায়েদের সাথে থাকা শিশুদের সঠিক সংখ্যা ও বয়সের বিস্তারিত বিবরণ চেয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন তলব করেছিলেন। তবে কারা কর্তৃপক্ষ এখনো সেই প্রতিবেদন দাখিল করেনি।
আদালতের ঐ আদেশে রুল জারি করে জানতে চাওয়া হয়েছিল—কারাগারে থাকা শিশুদের সুরক্ষা, সঠিক বিকাশ, শিক্ষা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণে কেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে না। সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষে এই রিটের চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে কারা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক ডেটা অনুযায়ী (২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত), দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে মায়েদের সাথে মোট ২৯৯ জন শিশু অবস্থান করছে, যাদের মধ্যে ১৫৩ জন কন্যাশিশু এবং ১৪৬ জন ছেলেশিশু। এসব শিশুদের মায়েদের একটি বড় অংশই মাদক মামলার আসামি এবং তারা হয় সাজা ভোগ করছেন অথবা তাদের মামলা বিচারাধীন।
বিভাগওয়ারী তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগের ১৮টি কারাগারে ১০০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারে ৯০ জন, রাজশাহী বিভাগের ৮টি কারাগারে ২৫ জন, রংপুর বিভাগের ৮টি কারাগারে ২৫ জন, খুলনা বিভাগের ১০টি কারাগারে ২০ জন, সিলেট বিভাগের ৫টি কারাগারে ১৯ জন, ময়মনসিংহের ৪টি কারাগারে ১৩ জন এবং বরিশাল বিভাগের ৬টি কারাগারে ৪ জন শিশু রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিশু রয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে।
পড়ুন : আফগানিস্তানকে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ
সা/


