মাথায় ছাদ নেই, তবু দুই বুক ভরা আশা: স্বপ্ন দেখছেন প্রতিবন্ধী আব্দুর রশিদ

​প্রতিবন্ধকতার সাথে যুদ্ধ করা দুই সন্তানের জনক আব্দুর রশিদের জীবন মানেই যেন এক অন্তহীন সংগ্রামের গল্প। মাথার ওপর নেই কোনো স্থায়ী ছাদ, দুবেলা দুমুঠো ভাতের জোগাড় করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হোঁচট খাওয়া এই মানুষটির মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র যখন বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তা নাড়া দেয় সংবেদনশীল হৃদয়গুলোকে। অবশেষে, অন্ধকারের এই যাত্রায় তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে গাইবান্ধা জেলা পরিষদ যা অসহায় এই মানুষটির জীবনের চাকা ঘুরিয়ে দেওয়ার এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত।

​সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রশাসকের কার্যালয় যেন এক ভালোবাসার মিলনমেলায় পরিণত হয়। সেখানে শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুর রশিদের হাতে ২০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক।

​গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী গ্রামের মৃত তজের আলীর ছেলে আব্দুর রশিদ। জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সাথে যুক্ত হয়েছিল চরম দারিদ্র্য ও ঘরহীন হওয়ার কষ্ট। দুই নিষ্পাপ সন্তানকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বা অনিশ্চয়তার মাঝে দিন কাটানোর সেই কষ্টের কথা প্রকাশের পর তা নজরে আসে জেলা পরিষদের। মানবিক বিবেচনায় দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস।

​টাকার অঙ্কে এই কুড়ি হাজার টাকা হয়তো খুব বড় কিছু নয়, কিন্তু একজন নিঃস্ব মানুষের কাছে এই অনুদান বিশ্বজয়ের সমান। চরম বিপদের দিনে এই সহানুভূতি আব্দুর রশিদের মতো মানুষের মনে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন জাগায়।

​আমাদের সমাজে আব্দুর রশিদের মতো এমন বহু মানুষ নীরবে চোখের জল ফেলেন। তাঁদের পাশে দাঁড়াতে কেবল সহানুভূতির বাণী যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন এমন বাস্তব ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।

গাইবান্ধা জেলা পরিষদের এই মহৎ পদক্ষেপ কেবল একজন আব্দুর রশিদকেই স্বস্তি দেয়নি, বরং সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে একটু সদিচ্ছাই পারে নিরাশ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। আব্দুর রশিদের এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প হোক সমাজের প্রতিটি মানবিক হৃদয়ের প্রেরণা।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ধামরাইয়ে ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ বাবা, যুবকের ২ মাসের কারাদণ্ড

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন