নেটওয়ার্কের বাইরে থাকলেও মোবাইলে মিলবে স্টারলিংক সেবা

প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থেকেও যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করছে স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল প্রযুক্তি। এবার এই প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশের বাংলালিংক গ্রাহকেরা। ঘোষিত অফার অনুযায়ী, প্রথম মাসে বাংলালিংকের যেকোনো ইন্টারনেট বা মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই পাওয়া যাবে স্টারলিংক মোবাইল সুবিধা। দ্বিতীয় মাস থেকে নির্ধারিত কিছু মাসিক ইন্টারনেট ও মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে সেবাটি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে পাঁচটি বিনা মূল্যের এসএমএস দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে সেবাটির আলাদা মাসিক মূল্য এবং কোন কোন প্যাকে এই সুবিধা পাওয়া যাবে, তার বিস্তারিত তথ্য ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি। ফলে নির্দিষ্ট খরচ ও সুবিধা জানতে বাংলালিংকের হালনাগাদ অফার যাচাই করতে হবে।

স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল প্রযুক্তি, যা ডাইরেক্ট-টু-সেল নামেও পরিচিত, এর মাধ্যমে উপযুক্ত মোবাইল ফোন সরাসরি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। সাধারণত মোবাইল ফোনে নেটওয়ার্ক পেতে কাছাকাছি মোবাইল টাওয়ারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে টাওয়ারের আওতার বাইরে থেকেও যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে দুর্গম অঞ্চল, সমুদ্র, পাহাড়ি এলাকা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে যেখানে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছায় না, সেখানে এটি বিকল্প যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের মতো নদী, চর, উপকূলীয় অঞ্চল ও দুর্গম জনপদসমৃদ্ধ দেশে এ ধরনের প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে। জেলে, নৌযানে কর্মরত ব্যক্তি, পর্যটক এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দারা এর মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাস্তবে কতটা সুবিধা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে স্যাটেলাইট কাভারেজ, ফোনের সক্ষমতা এবং অপারেটরের নির্ধারিত শর্তের ওপর।

প্রচলিত স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়ি বা অফিসে আলাদা ডিশ, অ্যান্টেনা কিংবা রাউটার স্থাপন করতে হয়। কিন্তু স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল প্রযুক্তির মূল বৈশিষ্ট্য হলো, উপযুক্ত মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি করা।

অর্থাৎ, সেবাটির জন্য প্রচলিত স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মতো আলাদা ডিশ বসানোর প্রয়োজন হয় না। তবে সব স্মার্টফোনে এই সুবিধা কাজ করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফোনের মডেল, সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং অপারেটরের অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্ট সেবা চালু করতে আলাদা কোনো অ্যাপ প্রয়োজন কি না, সে বিষয়ে অপারেটরের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। গ্রাহকেরা বাংলালিংকের মাইবিএল অ্যাপ বা গ্রাহকসেবার মাধ্যমে নিজেদের নম্বরে সুবিধাটি পাওয়া যাবে কি না, তা যাচাই করতে পারেন।

প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের কাভারেজের বাইরে চলে গেলে উপযুক্ত ফোন স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে খোলা আকাশের নিচে থাকা সাধারণত বেশি সুবিধাজনক। উঁচু ভবন, পাহাড় কিংবা অন্য কোনো বড় বাধা স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে গেলেই প্রতিবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্যাটেলাইট সংযোগ পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্যবহারকারীর অবস্থান, স্যাটেলাইট কাভারেজ, ফোনের সামঞ্জস্য এবং সেবার শর্ত অনুযায়ী সংযোগ পাওয়া নির্ধারিত হবে।

এ ছাড়া স্যাটেলাইট সংযোগ চালু হলেই প্রচলিত ফোরজি বা ফাইভজির মতো উচ্চগতির ইন্টারনেট পাওয়া যাবে, এমন ধারণাও ঠিক নয়। সেবার ধরন অনুযায়ী বার্তা পাঠানো, নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহার কিংবা অবস্থান ভাগ করে নেওয়ার মতো সুবিধা সীমিত থাকতে পারে।

ঘোষিত অফার অনুযায়ী, প্রথম মাসে বাংলালিংকের যেকোনো ইন্টারনেট বা মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই স্টারলিংক মোবাইল সুবিধা পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় মাস থেকে নির্ধারিত কিছু মাসিক ইন্টারনেট ও মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে সেবাটি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

এ ছাড়া প্রতি মাসে পাঁচটি বিনা মূল্যের এসএমএস দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে ব্যবহার করা যাবে। তবে কোন কোন প্যাকে সুবিধাটি পাওয়া যাবে, সেবাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবে কি না এবং অতিরিক্ত কোনো শর্ত রয়েছে কি না, তা বিস্তারিতভাবে জানা প্রয়োজন।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—প্রথম মাসে স্যাটেলাইট সুবিধার জন্য আলাদা খরচ না লাগলেও সংশ্লিষ্ট ইন্টারনেট বা মিশ্র বান্ডেল প্যাকের মূল্য দিতে হবে। একইভাবে, দ্বিতীয় মাস থেকে সুবিধাটি পেতে নির্ধারিত প্যাকের শর্ত পূরণ করতে হতে পারে।

শুধু ফোরজি সমর্থিত স্মার্টফোন থাকলেই স্টারলিংকভিত্তিক সেবা ব্যবহার করা যাবে, এমন নয়। এর জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ ফোন, বাংলালিংক সিম এবং সংশ্লিষ্ট নম্বরে সেবাটির প্রাপ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন কোনো ফোন কেনার আগে কিংবা বর্তমান ফোনে সেবা চালুর চেষ্টা করার আগে সামঞ্জস্যের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া ভালো।

বাংলালিংকের গ্রাহকেরা নিজেদের নম্বরে সুবিধাটি চালু আছে কি না, তা মাইবিএল অ্যাপ অথবা গ্রাহকসেবার মাধ্যমে জানতে পারেন। ফোনের সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্ক সেটিংস হালনাগাদ রাখাও প্রয়োজন হতে পারে।

ফোনে স্যাটেলাইট সংযোগ না এলে প্রথমে খোলা আকাশের নিচে গিয়ে চেষ্টা করা যেতে পারে। এরপর ফোনের সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক সেটিংস এবং সিমের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে হবে। এসব ঠিক থাকার পরও সংযোগ না পেলে বাংলালিংকের গ্রাহকসেবায় যোগাযোগ করে নম্বরের যোগ্যতা, কাভারেজ ও ব্যবহারের শর্ত সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল প্রযুক্তি প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য এই সুবিধা চালু হলে দুর্গম এলাকা ও জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগের বিকল্প বাড়তে পারে। তবে এর প্রকৃত সুবিধা নির্ভর করবে ফোনের সামঞ্জস্য, স্যাটেলাইট কাভারেজ এবং অপারেটরের নির্ধারিত প্যাক ও শর্তের ওপর।

পড়ুন:৫ নভেম্বর আসছে ‘রামায়ণ’, প্রকাশ্যে নতুন পোস্টার

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন