ঢাকায় আংশিক মেঘলা ও শুষ্ক আবহাওয়ার পূর্বাভাস

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এ সময় আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এবং দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিক বা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার গতিবেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। বুধবার সকাল ৬টায় রাজধানীর তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৬ শতাংশ। এর আগে মঙ্গলবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। আজ ঢাকায় সূর্য অস্ত যাবে সন্ধ্যা ৫টা ৩৪ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৫৬ মিনিটে।

‘সুপার এল নিনো’ ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি

প্রশান্ত মহাসাগরে অতি শক্তিশালী হয়ে ওঠা ‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে ২০২৬ সাল বিশ্বের ইতিহাসের উষ্ণতম বছর হিসেবে রূপ নিতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাসের পরিচালক কার্লো বুয়োনতেম্পো বার্তা সংস্থা এএফপিকে সতর্ক করে জানান, প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্রের এই উষ্ণ পর্যায়ের কারণে ২০২৬ সালের পর ২০২৭ সালেও বৈশ্বিক তাপমাত্রায় নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে।

চলতি বছরের জুনে শুরু হওয়া এই এল নিনোর প্রভাবে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা বহুগুণ বেড়ে গেছে। কোপার্নিকাস জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের নিনো ৩.৪ অঞ্চলে গত সেপ্টেম্বরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২৯ দশমিক ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা অতীতের ১৯৮২-৮৩, ১৯৯৭-৯৮ কিংবা ২০১৫-১৬ সালের এল নিনো পর্বকেও ছাড়িয়ে গেছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থাও জানিয়েছে, তাদের রেকর্ডে এটি সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছেছে। এছাড়া গত সেপ্টেম্বরে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা রেকর্ড ২১ দশমিক ০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উন্নীত হয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য মতে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের পর চলতি বছরের সেপ্টেম্বর ছিল বিশ্বজুড়ে দ্বিতীয় উষ্ণতম সেপ্টেম্বর। বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের (১৮৫০-১৯০০) তুলনায় ১ দশমিক ৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। এল নিনোর জমানো তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ার কারণে এই প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এর আগে ২০২৪ সালেও এল নিনোর কারণে তাপমাত্রা রেকর্ড গড়েছিল।

তবে বুয়োনতেম্পো স্পষ্ট করেন, এল নিনো অনুঘটক হিসেবে কাজ করলেও মূল খলনায়ক মানুষের তৈরি গ্রিনহাউস গ্যাস। জাতিসংঘের সতর্কবাণী অনুযায়ী, জীবাশ্ম জ্বালানির নিঃসরণ দ্রুত না কমালে প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা শীঘ্রই অতিক্রম হয়ে যেতে পারে।

পড়ুন : এনসিপির নতুন কৌশল কী, ৪ নেতাকে ঘিরে যে নতুন হিসাব

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন