এবার ইউরোপের এক দেশে ‘জেন-জি’ বিক্ষোভে উত্তাল

শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা, উচ্চশিক্ষার ব্যয় কমানো ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর দাবিতে আলবেনিয়ায় রাজপথে নেমেছেন তরুণেরা। রাজধানী তিরানায় বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষের একপর্যায়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভবন লক্ষ্য করে ইট ও কংক্রিটের টুকরা ছুড়েছেন শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। একই সময়ে ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ থেকে বিক্ষোভ চলছে।

বিজ্ঞাপন

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলবেনিয়ায় শিক্ষা ও সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে চলা বিক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংস হয়ে ওঠে। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ।

আন্দোলনের আয়োজকদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ, উচ্চশিক্ষার খরচ, আর্থিক সহায়তা এবং পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পাওয়ার সুযোগ—এসব বিষয় সামনে রেখেই তারা বিক্ষোভ করছেন। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষার ব্যয় ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা তরুণদের ভবিষ্যৎকে কঠিন করে তুলছে।

শুধু শিক্ষা কিংবা চাকরির দাবিতেই সীমাবদ্ধ নেই এই প্রতিবাদ। কয়েকজন বিক্ষোভকারী জানিয়েছেন, সমাজে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান এবং সরকারের প্রতি অসন্তোষ থেকেও তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। তাঁদের মতে, বিদ্যমান সামাজিক বৈষম্য ও অবিচারের অবসান প্রয়োজন।

বিক্ষোভকারী লুলজেতা কোলা বলেন, ‘আলবেনিয়ার এখন বিপ্লব দরকার। পরিবর্তন দরকার। পুরো ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন দরকার। কারণ, এভাবে আর চলতে পারে না।’

দেশটিতে সামাজিক অবিচার গভীর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধনী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে ব্যবধানও অনেক বেশি।

আলবেনিয়ার এই বিক্ষোভে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে তরুণদের অসন্তোষ সামনে এসেছে। অন্যদিকে ভারতে তরুণদের আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক।

ভারতে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্বে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি উঠেছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের সময় ব্যারিকেড টপকানোর ঘটনায় কক্‌রোচ জনতা পার্টির দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভারতের বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়ায় বৈধ ভোটারদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁদের একাংশের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু ভোটাররাও অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তবে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ভুলভাবে বাদ পড়া ভোটাররা পুনরায় নিবন্ধন করতে পারবেন।

দুই দেশের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট আলাদা। আলবেনিয়ায় শিক্ষার সুযোগ, উচ্চশিক্ষার ব্যয়, চাকরি ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে। ভারতে বিতর্কের মূল বিষয় ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা। তবে দুই ক্ষেত্রেই তরুণদের দাবি ঘিরে রাজপথে প্রতিবাদ তৈরি হয়েছে।

এই আন্দোলনগুলো শেষ পর্যন্ত কী পরিবর্তন আনবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক ন্যায়বিচার ও ভোটাধিকার নিয়ে তরুণদের উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এসব দাবি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

পড়ুন: আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী ও বিজিবি

আর/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন