সরকারি হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালদের উপদ্রব প্রতিরোধে দ্রুতই একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। দালালদের দৌরাত্ম্যকে একটি জাতীয় ব্যাধি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসচ্ছল রোগীদের বিভ্রান্ত করে অনৈতিকভাবে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো কর্মকাণ্ড স্পষ্ট অপরাধ, যা দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও শক্ত ভূমিকা রাখতে হবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। সরকারি হাসপাতালের আশপাশে যত্রতত্র ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে তোলা কঠিন করা এবং সরকারি চিকিৎসকদের সেখানে কাজের বিষয়েও সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ইঙ্গিত দেন তিনি।
হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় হাসপাতালে এডিস মশার বিস্তার রোধে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন ড. মুহিত। সোহ্রাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গের দুর্গন্ধ প্রসঙ্গে তিনি জানান, স্থান সংকুলান হলে মর্গটি সুবিধাজনক স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের ২১টি মর্গের আধুনিকায়ন ও পরিবেশ উন্নয়নের জন্য গৃহীত ‘ডিপিপি’ প্রকল্পের কাজ চলতি বছরেই শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
কৈশোরকালীন প্রজনন ও মানসিক সুরক্ষা: আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় ক্যাম্পেইন
দেশের তরুণদের সুস্থ ও সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও ডিজিটাল সুরক্ষায় নীতিগত অগ্রাধিকার জোরদারের প্রত্যয় প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তরুণদের মাঝে প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্যের সামাজিক ট্যাবু ভাঙতে পরিবারকে বড় ঢাল হিসেবে উল্লেখ করে তিনি উন্মুক্ত আলোচনার পরামর্শ দেন। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সারাদেশে প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে একযোগে বড় পরিসরে জাতীয় ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে সেরাক-বাংলাদেশ ও পরিবার পরিকল্পনা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে ‘বাংলাদেশ ১১তম জাতীয় যুব সম্মেলন অন হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার’ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সামাজিক ট্যাবু ও লোকলজ্জার কারণে কিশোর-কিশোরীরা সঠিক তথ্যের সংকটে ভোগে মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্যের অভাবে তরুণরা এআই বা চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিলেও তথ্য একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যাচাই করা উচিত। বাল্যবিয়ে ও পারিবারিক সহিংসতাপ্রবণ এলাকাগুলোকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ দীর্ঘমেয়াদি মনিটরিং করার পাশাপাশি তরুণদের মানসিক সুরক্ষায় সরকার একটি বিশ্বস্ত স্বাস্থ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ করছে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব বেঞ্জামিন রিয়াজীসহ পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞ ও যুব প্রতিনিধিরা বক্তব্য প্রদান করেন।
পড়ুন : শতভাগ টিকাদান নিশ্চিতের তাগিদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর; নিয়োগ পাচ্ছে ১ লাখ হেলথ কর্মী
সা/


