কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের কর্মসূচিতে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সংঘর্ষের দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন স্টার নিউজের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম ও প্রতিদিনের বাংলাদেশের কুমারখালী প্রতিনিধি মমিন ইসলাম। এসময় দুই সাংবাদিককে গালিগালাজ করার পাশাপাশি মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী। পরে জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাক্কির রহমান রাব্বির হস্তক্ষেপে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন দুটি ফেরত দেওয়া হয়।
আজ বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামের এ ঘটনায় জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে গড়াই নদীর ওপর প্রস্তাবিত শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এরআগে তিনি রায়ডাঙ্গা কবরস্থানে শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন। কবর জিয়ারত শেষে প্রতিমন্ত্রী গাড়িতে ওঠার সময় সেখানে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গেলে স্টার নিউজের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলামের ওপর চড়াও হন জেলা ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচিত মুন্না। এসময় তাঁকে গালিগালাজ করে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও হেনস্তা করা হয় জহুরুলকে। একই সময়ে আরেকজন ছাত্রদল কর্মী তাঁকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে প্রতিদিনের বাংলাদেশের কুমারখালী প্রতিনিধি মমিন ইসলামও হামলার শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে কিল-ঘুষি মারার পাশাপাশি তাঁর মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়। পরে জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাক্কির রহমান রাব্বির হস্তক্ষেপে দুটি মোবাইল ফোন ফেরত পান দুই সাংবাদিক।
স্টার নিউজের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত থাকাকালে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করছিলাম। এ সময় আমার কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং ধাক্কাধাক্কি করা হয়। তিনি আরও বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি সাংবাদিকদের এভাবে হামলা ও হেনস্তার শিকার হতে হয়, তাহলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কোথায়? সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাধা, হামলা কিংবা অপমানের শিকার হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জেলায় কর্মরত সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
পড়ুন : দ্রুততম সময়ে শহিদ আবরার ফাহাদ সেতু বাস্তবায়ন হবে : মীর শাহে আলম


