নিজে গোলের দেখা না পেলেও দুই গোলেই দারুণ অবদান রাখলেন লিওনেল মেসি। তার বানিয়ে দেওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন রদ্রিগো দে পল এবং দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে গোলের দেখা পান হের্মান বের্তেরামে। এই দুই আর্জেন্টাইন তারকার নৈপুণ্যে নিউ ইয়র্ক সিটি এফসিকে পরাস্ত করে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) প্লে-অফ নিশ্চিত করল ইন্টার মায়ামি। ঘরের মাঠে আজ নিউ ইয়র্ক সিটিকে ২-০ গোলে হারিয়েছে দলটি।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই বের্তেরামে ও দে পলের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধে কোনো গোল না হলেও একেবারে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি রুখে দিয়ে মায়ামির জয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেন গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার। এই জয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের দ্বিতীয় স্থান আরও সুসংহত করল মায়ামি। নিয়মিত মৌসুমের এখনো পাঁচ ম্যাচ বাকি থাকতেই তাদের প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত হলো।
গত মাসে দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো টানা দুই ম্যাচ জয়ের স্বাদ পেলেন মায়ামি কোচ ক্রিস্তিয়ান ‘কিলি’ গনসালেস। ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আর্জেন্টাইন এই কোচ বলেন:
‘আমি খুশি হয়েই মাঠ ছাড়ছি। অবশ্যই উন্নতির অনেক জায়গা আছে। তবে আমরা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি।’
এর আগে গত শনিবার ক্লাবের হয়ে মাঠে ফিরে জোড়া গোল করেছিলেন মেসি। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে আবেগঘন বিদায়ের পর মায়ামির জার্সিতে সেদিনই প্রথম খেলেছিলেন তিনি। নিউ ইয়র্কের বিপক্ষেও শুরু থেকেই বেশ চনমনে ও আক্রমণাত্মক ছিলেন এই বিশ্বজয়ী তারকা। প্রথমার্ধের দুই গোলেই জড়িয়ে ছিল তার কারিকুরি।
ম্যাচের ২০তম মিনিটে মেসির পা থেকেই শুরু হয় মায়ামির প্রথম গোলের আক্রমণ। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বল নিয়ন্ত্রণে রেখে তিনি পাস দেন দে পলকে। সেখান থেকে ডান দিকে উুঁচ করে লুইস সুয়ারেসকে বল বাড়ান দে পল। গোললাইন ঘেঁষে বক্সে ঢুকে পড়ে গোলমুখে নিচু পাস দেন উরুগুয়ের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার। একদম ফাঁকায় থাকা বের্তেরামের সামনে তখন কেবল বল জালে জড়ানোর কাজটুকুই বাকি ছিল। সহজেই সেই কাজ সেরে মায়ামিকে এগিয়ে নেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে মেক্সিকান ফয়ার্ড বের্তেরামের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে; গত মে মাসের পর এমএলএসে এটিই তার প্রথম গোল।
এরপর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আবারও মায়ামির আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মেসি। দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে মাঝমাঠ পেরিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যান বের্তেরামে। ডান দিকে থাকা মেসিকে পাস দিতে গিয়ে একটু এদিক-সেদিক হলেও শেষ পর্যন্ত বল পৌঁছে যায় আর্জেন্টাইন অধিনায়কের পায়ে। তিন ডিফেন্ডারকে নিজের দিকে টেনে নিয়ে বাঁ পায়ের জাদুকরি বাইরের অংশ দিয়ে দে পলকে বল বাড়ান মেসি। সেই পাস লুফে নিয়ে জোরালো শটে গোলরক্ষকের ডান দিক দিয়ে ওপরের কোণায় বল জালে জড়ান দে পল। দুই গোলের পরিষ্কার ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় মায়ামি।
বিরতির পর ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি মেসি। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার বাঁকানো শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। নির্ধারিত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তেও মেসি-দে পল জুটির সমন্বয়ে আরেকটি গোলের দারুণ সুযোগ তৈরি করেছিল স্বাগতিকরা। ছোট করে নেওয়া কর্নার থেকে দে পলকে বল বাড়িয়েছিলেন মেসি। বক্সের বাইরে থেকে এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের দুর্দান্ত শট দূরের ওপরের কোণা দিয়ে জালে ঢোকার পথেই ছিল। তবে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত দক্ষতায় বল পোস্টে লাগিয়ে দেন নিউ ইয়র্ক গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ।
ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে অবশ্য গোল হজম করার শঙ্কায় পড়েছিল মায়ামি। বদলি খেলোয়াড় তালেস মানিয়োকে বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন ইয়ান ফ্রে, ফলে পেনাল্টি পেয়ে যায় নিউ ইয়র্ক। কিন্তু নিকোলাস ফের্নান্দেস মেরকাউয়ের নেওয়া শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণভাবে প্রতিহত করেন সেন্ট ক্লেয়ার। তাতে ব্যবধান কমানোর শেষ সুযোগটিও হাতছাড়া হয় সফরকারীদের।
এই জয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে কোনো গোল হজম করল না মায়ামি, যেখানে এর আগে টানা ১০ ম্যাচে নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল তারা। অন্যদিকে, নিউ ইয়র্ক সিটির দুঃসময় কাটছেই না; এমএলএসে তাদের শেষ ১১ ম্যাচের মধ্যে এটি মাত্র একটি জয়। ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান ঘোচাতে না পারলেও নিজেদের দ্বিতীয় স্থান শক্ত করার পাশাপাশি ঘরের মাঠে প্লে-অফ খেলার সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনাও জোরালো করল মায়ামি।
পড়ুন :
সা/


