বইয়ের ভেতর ইয়াবার চালান! নেত্রকোনায় পুলিশের জালে পাচারকারী

অপরাধীরা যতই ধূর্ত হোক না কেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তীক্ষ্ণ নজরদারি যে এড়াতে পারে না- নেত্রকোনায় পুলিশের সাম্প্রতিক একটি অভিযান যেন তারই প্রমাণ। সাধারণ কাগজের কার্টন, তার ভেতর রাখা একটি বই। বাইরে থেকে দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই, এই মলাটের নিচেই লুকিয়ে আছে সর্বনাশা মাদক। এমন অভাবনীয় ও অভিনব কায়দায় ইয়াবা পাচারের সময় পাঁচ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ একজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে নেত্রকোনা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-পূর্ব)।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১টার দিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেন নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম।

পুলিশ সুপারের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় এবং ডিবি (পূর্ব)-এর অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাঠে নামে। এসআই মো. আব্দুল্লাহ আল নোমানসহ ডিবির ওই টিমটি গতকাল (বুধবার) বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে নেত্রকোনা মডেল থানাধীন ত্রিয়শ্রী বাজারের মেইন রোড সংলগ্ন ‘রাকিব রুম্মী ফার্নিচার এন্ড ইলেকট্রনিক্স’ দোকানের সামনের পাকা রাস্তায় অবস্থান নেয়।

সেখান থেকেই তারা আটক করেন মো. রুজেল মিয়া (৩৫) নামের যুবককে। রুজেলের সাথে থাকা ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়িতে খাকি রঙের কাগজের কার্টন রাখা ছিল। পুলিশ তল্লাশি করে কার্টনের ভেতর বিশেষভাবে চতুর্ভুজ আকৃতিতে কাটা বই উদ্ধার করে। অবাক করার বিষয় হলো, ওই বইয়ের ভেতরেই চারটি আলাদা পোটলায় থরে থরে সাজানো ছিল পাঁচ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ইয়াবার বাজারমূল্য আনুমানিক ১৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা। শুধু ইয়াবাই নয়, মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি পুরোনো তিন চাকার ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি এবং একটি পুরোনো ‘আইটেল’ বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

এ অভিযানের সূত্র ধরে পুলিশ পলাতক আসামি রফিকুল ইসলাম (৩৯)-এর ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে মাদক পরিবহনের উপযোগী করে বিশেষভাবে তৈরি দুটি পুরোনো কালো রঙের মোটরসাইকেলের তেলের ট্যাংকি উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তেল পরিবহনের আড়ালে কীভাবে মাদক পাচারের ছক কষা হয়েছিল, ট্যাংকিগুলো তারই প্রমাণ বহন করে। এছাড়া সেখান থেকে চারটি পুরোনো নাম্বার প্লেটও জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মূল হোতাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পলাতক আসামি রফিকুল ইসলামসহ এই চক্রের সাথে জড়িত অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয় জনকে শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যেই এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃত আসামি রুজেল মিয়াকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।

মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধি সমাজকে কীভাবে নীরব ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তা সচেতন নাগরিকদের ভাবিয়ে তুলেছে। তবে নেত্রকোনা পুলিশের সফল অভিযান সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। অপরাধীদের নিত্যনতুন কৌশলের বিপরীতে পুলিশের পেশাদারিত্ব ও তৎপরতা আগামী দিনে মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

পড়ুন : সৌদি আরবে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘনের দায়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন