চার বছরেও শেষ হয়নি কুশুরা-ধানতারা সড়কের কাজ, দুর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ

ঢাকার ধামরাইয়ে কুশুরা বাজার থেকে ধানতারা বাজার পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজ চার বছরেও শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করেই আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিল উত্তোলন করেছে বলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাস্তবে সড়কটির ৪০ শতাংশ কাজও শেষ হয়নি।

বিজ্ঞাপন

কাজ দীর্ঘদিন অসম্পূর্ণ পড়ে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন কুশুরা, যাদবপুর, বাইশাকান্দা ও বালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা। ধুলাবালি, খানাখন্দ ও বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতার কারণে সড়কটি দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে এলজিইডি। বর্তমানে নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এলজিইডি সূত্র জানায়, উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় কুশুরা বাজার থেকে ধানতারা বাজার পর্যন্ত সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে কাজের দায়িত্ব পায় ধামরাইয়ের মেসার্স ইসমাইল হোসেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। সড়কের বিভিন্ন অংশে কিছু কাজ করা হলেও বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন অসম্পূর্ণ পড়ে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোথাও ইটের খোয়া ফেলে রাখা হলেও পরবর্তী কাজ না করায় সেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।

এদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পের ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিল উত্তোলন করেছে বলে এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে। তবে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কাজের সঙ্গে ওই অগ্রগতির হিসাবের মিল নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, বাস্তবে ৪০ শতাংশ কাজও শেষ হয়নি।

সম্প্রতি সড়কটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, কোথাও পাকা কাজ করা হয়েছে, আবার অনেক অংশ এখনো সংস্কারের অপেক্ষায়। আগে ফেলা ইটের খোয়ার কিছু অংশ ভেঙে গুঁড়ো হয়ে গেছে। শুকনো আবহাওয়ায় যানবাহন চলাচলের সময় সড়ক থেকে ধুলাবালি উড়ছে। বৃষ্টির সময় বিভিন্ন স্থানে পানি জমে তৈরি হচ্ছে গর্ত।

এতে অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন ধরে কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় তাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, সংস্কারকাজ শুরুর আগে সড়কটি পুরোনো ও খানাখন্দে ভরা থাকলেও কোনোভাবে চলাচল করা যেত। কিন্তু সংস্কারের নামে বিভিন্ন অংশে কাজ শুরু করে দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দ্রুত কাজ শেষ না হলে বর্ষায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

কাজ অসম্পূর্ণ রাখার বিষয়ে আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে এলজিইডি। ধামরাই উপজেলা প্রকৌশলী মিশুক কুমার দত্ত বলেন, “আইন অনুযায়ী আগের ঠিকাদারের সঙ্গে এই কাজের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা এখন কাজ করছে। আমরা আশা করছি, দ্রুত কাজটি সম্পন্ন হবে।”

আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী বলেন, এ বিষয়ে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে কোনো ধারণা নেই।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে যে বিল উত্তোলন করা হয়েছে, মাঠপর্যায়ের বাস্তব কাজের সঙ্গে তার কতটা সামঞ্জস্য রয়েছে। এ ছাড়া কাজের মান ও প্রকল্পের অগ্রগতি যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

তাদের দাবি, আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সম্পন্ন দেখানো কাজ, উত্তোলন করা বিল এবং প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে সড়কের বাকি কাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রানা তালুকদারের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে ফোনটি বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এলজিইডি জানিয়েছে, আগের ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পর অসম্পূর্ণ কাজ নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন দ্রুত কাজ শেষ হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।

পড়ুন:দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব: ডিসি ফরিদা

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন