চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়ক নির্মাণকাজ নিয়ে চেম্বার সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদের দেওয়া বক্তব্যকে ভিত্তিহীন দাবি করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলার কর্মরত ঠিকাদাররা। একই সঙ্গে বক্তব্যের জন্য দ্রুত ভুল স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় তাকে অযোগ্য ও অবাঞ্ছিত ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ঠিকাদাররা।
ঠিকাদারদের দেওয়া এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে চেম্বার ভবনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলার সময় ঠিকাদার ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভিত্তিহীন বক্তব্য দেন চেম্বার সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ।
বিবৃতিতে ঠিকাদাররা দাবি করেন, ড্রেনেজ ও সড়ক নির্মাণকাজ সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনেই ঠিকাদারদের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চেম্বার সভাপতি। অথচ সরকারি বিধি অনুযায়ী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা যাচাই করা হয়। এসব যাচাই-বাছাইয়ের পরই যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করেন তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চেম্বার সভাপতি ১০০ কিলোমিটার সড়কের টেন্ডার ও খননকাজ নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। ঠিকাদারদের দাবি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১০০ কিলোমিটার সড়কের কোনো কাজের টেন্ডার হয়নি। পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে যেসব স্থানে কাজের জন্য ঠিকাদারদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেসব স্থানে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
কিছু এলাকায় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজে বিলম্বের কারণ হিসেবে বিবৃতিতে ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়। ঠিকাদারদের ভাষ্য, পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় জমির কাগজপত্র নিয়ে জটিলতা থাকায় সংশ্লিষ্ট কিছু জায়গা ঠিকাদারদের বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে এসব এলাকায় কাজের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ঠিকাদাররা বিবৃতিতে বলেন, তিনি একজন সৎ, যোগ্য ও সজ্জন ব্যক্তি এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন বলে তারা মনে করেন।
ঠিকাদাররা আরও অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ পূরণ না হওয়ায় চেম্বার সভাপতি বারবার পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারদের সম্পর্কে না জেনে মন্তব্য করছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে চেম্বার সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদের বলেন আমি জনগণের সাথে এ কথা বলেছি আমি কোন ব্যাক্তি সাথে একথা বলিনি
বিবৃতির শেষাংশে ঠিকাদাররা চেম্বার সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদকে তাঁর বক্তব্যের ভুল স্বীকার করে দ্রুত তা সংশোধনের আহ্বান জানান। অন্যথায় তাঁকে অযোগ্য ও অবাঞ্ছিত ঘোষণার পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এবিষয়ে চাঁপাই নবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল ওহেদ বলেন, আমি যেটা বলেছি সেটা পৌরসভার জনগণের স্বার্থেই বলেছি। কোন ঠিকাদার আমার দুশমন নয় বা কেউ আমার প্রতিপক্ষ নয়। আমি বলেছিলাম পৌরসভা যে ৩০০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুর এমন ভয়াবহতা সৃষ্টি হতো না।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভা যদি সঠিকভাবে ড্রেনেজ এবং রাস্তা পাশে পানি জমে না থাকতো তাহলে মশার প্রজনন এত বেশি বৃদ্ধি হতো না।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ২৫% হলেও বিল উঠানো হয়েছে ৩০ থেকে ৪০% কাজের। এ বিষয়ে তদন্ত করলে প্রমাণ পাওয়া যাবে। আমি পৌরসভার কাজের মান এবং বিল উত্তোলনের তদন্তের জোর দাবি জানাচ্ছি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের চেম্বার অফ কমার্স অ্যাড ইন্ডাস্ট্রি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব করেন। চেম্বার এর সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ জানান।
পড়ুন:চার বছরেও শেষ হয়নি কুশুরা-ধানতারা সড়কের কাজ, দুর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ
ইমি/


