আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব সর্বজনীন, শান্তিপূর্ণ ও বিঘ্নহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে নজিরবিহীন প্রযুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা। উৎসব চলাকালীন প্রতিটি মণ্ডপে দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা বিধানকল্পে দেশের নির্দিষ্ট ২৫৭টি পূজামণ্ডপকে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি (CCTV) এবং পুলিশ সদস্যদের ‘বডিওন ক্যামেরা’র (Body-worn Camera) কঠোর নজরদারিতে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা
নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঐতিহ্যগত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি এবার আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারকে সর্বাধিক প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা এই ২৫৭টি পূজামণ্ডপের মূল প্রবেশপথ, নাটমন্দির, প্রতিমা প্রাঙ্গণ এবং আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরা সচল থাকবে।
এর পাশাপাশি মণ্ডপ ও তার চারপাশে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শরীরে থাকবে বডিওন ক্যামেরা। এই ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে সরাসরি কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কন্ট্রোল রুম থেকে পুরো পরিস্থিতি সরাসরি (লাইভ) পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। ফলে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।
কন্ট্রোল রুম ও মনিটরিং সেল গঠন
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত রাখতে একটি আধুনিক সেন্ট্রাল কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা সচল থাকা এই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমেই ২৫৭টি মণ্ডপের সিসিটিভি ফুটেজ এবং বডিওন ক্যামেরার লাইভ ফিড সরাসরি তদারকি করবেন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা। এছাড়া যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য বিশেষ কুইক রেসপন্স টিম (QRT) এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, “পূজামণ্ডপে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ২৫৭টি মণ্ডপকে সার্বক্ষণিক মনিটর করা হবে। ফলে অন্যায় বা উসকানিমূলক কাজ করে কেউ পার পাবে না।”
স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়
প্রযুক্তিগত এই নজরদারির পাশাপাশি মণ্ডপগুলোর আয়োজক কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে স্থানীয় প্রশাসন। মণ্ডপগুলোতে নিজস্ব প্রহার ও নিজস্ব উদ্যোগে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা বা ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীদেরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় রেখে দায়িত্ব পালনের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
প্রতিটি মণ্ডপে নির্দিষ্ট প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ আলাদা রাখা, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে মেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ে ব্যবহার করে তল্লাশির ব্যবস্থাও থাকবে। একই সাথে গুজব প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রত্যাশা
ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ দেশের সুদীর্ঘ অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতিরই পরিচয় বহন করে। তাই সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ও বডিওন ক্যামেরার এই কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা কোনো ধরনের ভয় বা শঙ্কা ছাড়াই আনন্দঘন পরিবেশে দেবীর আরাধনা ও উৎসব উদযাপন করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।
পড়ুন : রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ নারী নিহত
সা/


