জমি অধিগ্রহণের ফাঁদে উড়ালসড়ক, দুর্ভোগে পুড়ছে ধামরাইয়ের কাওয়ালিপাড়া

যানজট নিরসনের স্বপ্ন দেখিয়ে শুরু হয়েছিল উড়ালসড়ক নির্মাণের কাজ। কিন্তু তিন বছর পেরোতে চললেও সেই স্বপ্নের পূর্ণ বাস্তবায়ন নেই। মূল কাঠামোর কাজ শেষ হলেও জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় থমকে আছে বাকি কাজ। আর এর মাশুল গুনছেন ধামরাইয়ের কাওয়ালিপাড়া বাজার দিয়ে চলাচলকারী হাজারো মানুষ। সড়কজুড়ে খানাখন্দ, সামান্য বৃষ্টিতে কাদা-পানি, শুষ্ক মৌসুমে ধুলার দুর্ভোগ আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট—সব মিলিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত। প্রশ্ন উঠেছে, যানজট কমানোর প্রকল্পই যদি মানুষের ভোগান্তি বাড়ায়, তবে এর সুফল মিলবে কবে?

টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লাউহাটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কাওয়ালিপাড়া বাজারের যানজট নিরসনে ২০২৩ সালের শেষ দিকে উড়ালসড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। শুরুতে কাজের গতি ভালো থাকলেও গত কয়েক মাস ধরে নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। প্রকল্পের মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে আছে অ্যাপ্রোচ সড়ক ও সার্ভিস সড়কের কাজ। ফলে উড়ালসড়ক নির্মাণের উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়ায় দুর্ভোগ কমার বদলে বেড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

কাওয়ালিপাড়া বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ চলাচলপথ। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রী ও পরিবহনচালকেরা। কিন্তু নির্মাণকাজের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তার ওপর সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ থাকায় গাড়ি চলছে ধীরগতিতে। সামান্য চাপ বাড়লেই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষকেও আটকে থাকতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়।

ধামরাইয়ের বালিয়া ইউনিয়নের বাস্তা নয়াচর গ্রামের বাসিন্দা তুহিন এই সড়কে নিয়মিত চলাচল করেন। নিজের ভোগান্তির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই পয়েন্টে এত বেশি যানজট হয় যে মাঝেমধ্যে এই জট থেকে বের হতেই এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়।”

শুধু যাত্রীদের দুর্ভোগ নয়, স্থবির হয়ে পড়ছে বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যও। যানজট ও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে ক্রেতারা বাজারে আসতে অনীহা দেখাচ্ছেন বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। এতে বিক্রি কমে যাওয়ায় দোকানভাড়া ও অন্যান্য খরচ মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের।

কাওয়ালিপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী রনি আহমেদ বলেন, “রাস্তা ও উড়ালসড়কের নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে বাজারের অবস্থা খুবই খারাপ। এই বেহাল অবস্থার জন্য আশপাশের লোকজন বাজারে কম আসে। যার কারণে আমাদের ব্যবসা খারাপ যাচ্ছে। ঠিকমতো মাসিক দোকানভাড়ার টাকাও আয় করতে পারি না। আমরা চাই, দ্রুত কাজটি শেষ করা হোক। তাহলে এই যানজটের দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাব।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উড়ালসড়কটির মূল কাঠামোর কাজ শেষ হয়েছে। তবে জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় অ্যাপ্রোচ সড়ক ও সার্ভিস সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না। অর্থাৎ মূল কাঠামো তৈরি হলেও সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় উড়ালসড়কটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী শাহরিয়ার আলম বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ শেষ করে জমি বুঝে পাওয়া গেলে অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। এরপর পুরো উড়ালসড়ক বা ওভারপাসটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া যাবে।

কিন্তু কবে শেষ হবে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া, কবে শুরু হবে বাকি নির্মাণকাজ, আর কবে মিলবে যানজট থেকে মুক্তি—এসব প্রশ্নের নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে প্রতিদিন একই ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে অসমাপ্ত কাজ শেষ করার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ যানজট নিরসনের জন্য নেওয়া একটি প্রকল্পের কারণে বছরের পর বছর মানুষের ভোগান্তি চলতে পারে না। কাওয়ালিপাড়াবাসীর এখন একটাই প্রশ্ন—উড়ালসড়কটি কবে চালু হবে, আর কবে শেষ হবে তাঁদের এই দুর্ভোগ?

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর ১৪ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজের অনুমোদন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন