শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার সীমান্ত এলাকায় পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষ্যে বিজিবি মোতায়েন করেছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থানের দীর্ঘ ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনেরা যেন নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর আওতায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক নজরদারি এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই উপলক্ষে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার ৯৯ কিঃমিঃ সীমান্ত এলাকায় সর্বমোট ৮৬টি পূজামণ্ডপ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাটালিয়ন সদরের ০২-০৩ কিঃমিঃ এর মধ্যে দিনাজপুর শহর এলাকায় ২২টি, দিনাজপুর জেলার বিরল ও বোচাগঞ্জ উপজেলাধীন সীমান্ত এলাকায় ২৩টি এবং ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ, রাণীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ৪১টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। চিহ্নিত ৮৬টির মধ্যে ৬৪টি পূজামণ্ডপই আন্তর্জাতিক সীমারেখার খুব নিকটে অবস্থিত।
এ প্রেক্ষাপটে পূজার সময়সীমা জুড়ে মোট ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের মাধ্যমে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে না পারে এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন যেন তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে সম্পন্ন করতে পারেন।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এ ক্ষেত্রে তিনি গুজবে কান না দেয়া, যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার না করা এবং সন্দেহজনক কোনো বিষয় নজরে এলে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার জন্য সকলকে আহ্বান জানান।
এ বছর ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ থেকে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে এই ধর্মীয় উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটবে।
তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। আসুন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দময় করে তুলি। “বিজিবি হবে সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক” এই বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দিতে বাহিনীর প্রতিটি সদস্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
পড়ুন : কালিয়াকৈর উপজেলা প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটিকে ফুলেল শুভেচ্ছা


