কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল এবং তরুণ তুর্কি মিডফিল্ডার আরদা গুলার ও ইয়ান দিয়োমান্দের অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে সেভিয়াকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত এই দুর্দান্ত জয়ের ফলে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান কমিয়ে ছয় পয়েন্টে এনে দাঁড় করাল স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
আন্তর্জাতিক বিরতির পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি রিয়ালের টানা তৃতীয় জয়। এই জয়ের সুবাদে ২১ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে লস ব্লাঙ্কোসরা। তাদের চেয়ে ঠিক এক পয়েন্ট বেশি নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে অ্যাথলেতিকো মাদ্রিদ। অন্যদিকে, এই বড় হারের পর ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছে সেভিয়া। বিশেষ করে, আগামী রবিবারই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে রিয়ালের, আর এই বড় জয়টি দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
নিষেধাজ্ঞার কারণে দলের অন্যতম ভরসা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ছাড়াই মাঠে নামতে হয়েছিল রিয়ালকে। তবে আক্রমণভাগে তার অনুপস্থিতি খুব একটা টের পাওয়া যায়নি। বরং আরদা গুলারের চমৎকার সৃজনশীলতা ও নিখুঁত পাসের ওপর ভর করে ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় স্বাগতিকেরা। যদিও ম্যাচের শুরুর দিকে খেলা কিছুটা ধীরগতির ছিল, তবে গুলারের গতিশীল নৈপুণ্যে দ্রুতই জমে ওঠে লড়াই। ম্যাচের প্রথমার্ধে গুলার ও পেপে ফার্নান্দেজের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেভিয়া লাল কার্ডের জোরালো আবেদন জানালেও রেফারি তাতে কর্ণপাত করেননি। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই নিজের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দেন গুলার। সতীর্থ ইয়ান দিয়োমান্দের কাছ থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত এক শটে বল জালে জড়িয়ে রিয়ালকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই তুর্কি মিডফিল্ডার।
এরপর ৩৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফরাসি স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পে। চমৎকার দক্ষতায় প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে বক্সে প্রবেশ করে গোলরক্ষক ওডিসিয়াস ভ্লাখোদিমোসকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করেন তিনি।
বিরতির পর ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা চালায় সেভিয়া। একপর্যায়ে ফেলিক্স কোরেইয়ার একটি বিপজ্জনক আক্রমণ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করেন রিয়ালের ডিফেন্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দে। কোচ হোসে মরিনিওর অধীনে নতুন ভূমিকায় রাইটব্যাক হিসেবে খেলা এই উরুগুইয়ান তারকা দলের দুর্দিনে বিশ্বস্ত রক্ষাকবচ হয়ে ওঠেন।
রক্ষা করার পর আক্রমণে আরও বেশি ধার বাড়ায় রিয়াল। সেভিয়ার অতি-আক্রমণাত্মক কৌশলের কারণে রক্ষণভাগে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গার পুরো ফায়দা তোলেন দিয়োমান্দে। প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে চমৎকারভাবে কাটিয়ে তিনি বল বাড়িয়ে দেন এমবাপ্পেকে। বক্সের ভেতরে এমবাপ্পেকে ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি ফরাসি তারকা এমবাপ্পে। ম্যাচের ৬০ মিনিটের পর পাওয়া এই গোলে রিয়ালের জয় একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে যায়।
ম্যাচ শেষ হওয়ার ঠিক ১০ মিনিট আগে রিয়ালের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ভুলবশত বল হারানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান কিছুটা কমায় সেভিয়া। নিজেদের অর্ধে এমবাপ্পে বল হারালে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান বদলি হিসেবে নামা খেলোয়াড় মানু বুয়েনো।
তবে স্বাগতিকদের সাময়িক স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি দিয়োমান্দে। গোল হজমের মোটে দুই মিনিটের ব্যবধানে দারুণ এক শটে প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়ে নিজের অসাধারণ পারফরম্যান্সের পূর্ণতা দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের বড় ও স্বস্তিদায়ক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।
এদিকে, এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিকটি ছিল ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার এদের মিলিতাওয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মাঠে ফেরা। হ্যামস্ট্রিংয়ে অস্ত্রোপচারের কারণে গত এপ্রিল মাস থেকে মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে বদলি হিসেবে তিনি মাঠে নামলে দর্শকরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনায় বরণ করে নেন।
পড়ুন : লিডসের মাঠে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হতাশা, আর্সেনালের কষ্টের জয়
সা/


