ক্যানসার চিকিৎসায় স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে ক্যানসার চিকিৎসার যন্ত্রপাতি স্থাপন, অপসারণ ও কেনাকাটায় দীর্ঘসূত্রিতা দূর করার পাশাপাশি শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল ক্যানসার কংগ্রেস ২০২৬’ (কনফারেন্স) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য খাতে অতীতে নানা অব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরের শাসনব্যবস্থা স্বাস্থ্য খাতকে অনেক পিছিয়ে দিয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী এ খাতের ওপর বিশেষ নজরদারি রাখছেন, যাতে চিকিৎসার অভাবে কোনো দরিদ্র মানুষকে প্রাণ হারাতে না হয়। নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে সন্তুষ্ট রেখে চাকরি বাঁচাতে পাগলের মতো সারা দেশে ছুটে বেড়াচ্ছি।”
কর্মক্ষেত্রে অবহেলার বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ খাতে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চাকরি থাকবে না।
হাসপাতালগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামোগত ঘাটতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ড, মেঝে ও শৌচাগারে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখা যায়, যা রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় বাধা। শৌচাগার ও পয়েন্ট নিষ্কাশন ব্যবস্থার সমস্যা দ্রুত সমাধানে প্রকৌশলীদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় জনবল ও অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস দেন তিনি।
সরকারি অর্থকে জনগণের অর্থ উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ক্যানসার চিকিৎসার যন্ত্রপাতি কেনার পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা জরুরি। এ খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও জনবলের চাহিদা নির্ধারণেরও নির্দেশ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ক্যানসার পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান জানান, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় পৌনে দুই লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং তাঁদের মধ্যে প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। ক্যানসার রোগীদের প্রায় ৭০ শতাংশই শেষ পর্যায়ে এসে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, যা তাঁদের মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
এ পরিস্থিতি উত্তরণে তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) কর্নার ব্যবহার করে ক্যানসার স্ক্রিনিং এবং প্রসবপূর্ব সেবা নিতে আসা নারীদের স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যানসার পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন।
ক্যানসার চিকিৎসার জন্য কেবল ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি কেনাই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, বিশেষ করে রেডিওথেরাপির জন্য ‘মেডিকেল ফিজিসিস্ট’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাঁদের ছাড়া রেডিয়েশনের ডোজ নির্ধারণ রোগীর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। তিনি ক্যানসার চিকিৎসায় এ ধরনের দক্ষ জনবলের পদ সৃষ্টি ও দ্রুত নিয়োগের দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, যন্ত্রপাতি কেনার চুক্তিপত্রেই রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ সরবরাহ ও মেরামতের শর্ত পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকতে হবে, যাতে সামান্য ত্রুটির কারণে কোনো যন্ত্র মাসের পর মাস অকেজো হয়ে পড়ে না থাকে। যন্ত্রপাতি স্থাপনের আগেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, মেডিকেল ফিজিসিস্ট ও প্রকৌশলী নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
পড়ুন : এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে…
সা/


