রাজশাহী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে রংপুর সফর শেষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহী পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ২টা ৫৫ মিনিটে একটি সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। এর আগে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী, দুপুরে নগরের ধর্মসভা মন্দিরের (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানাবেন তিনি। এরপর বিকেল ৩টায় নগরের ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে (হাজী মুহাম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ) স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপির সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ অন্যরা।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ, মহানগর পুলিশ কমিশনার ফয়জুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদ।

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর তিনি ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে গোটা রাজশাহী নগরীতে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন সড়ক সংস্কার ও সড়ক বিভাজকে দৃষ্টিনন্দন রঙের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি জনসভাকে সফল করতে ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে নির্মাণ করা হয়েছে একটি বিশাল মঞ্চ।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানাতে কখনো রাজশাহী আসেননি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসছেন। তিনি তাঁদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি জনসভায় রাজশাহীবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভা হবে ঐতিহাসিক।”

মিজানুর রহমান মিনু আরও জানান, এই ঐতিহাসিক জনসভায় রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হবে। যার মধ্যে রয়েছে—

রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা, রাজশাহী থেকে কলকাতা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটে সরাসরি তিনটি ট্রেন চালু করা, এবং রাজশাহী বিমানবন্দরে কার্গো বিমান চলাচলের ব্যবস্থা করা।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে বিমান অবতরণের স্থান, ভিআইপিদের যাতায়াতের পথ, ধর্মসভা মন্দির, সার্কিট হাউজ এবং জনসভাস্থলসহ পুরো নগরজুড়ে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত চার শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। এছাড়া যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ। পুলিশ, এসবি এবং এসএসএফ সদস্যরাও সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন।

দুপুরের পর থেকেই রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই জনসভাকে কেন্দ্র করে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মাদরাসা মাঠের দিকে আসতে শুরু করেছেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। তাদের হাতে রয়েছে নানা রঙের ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় প্রতীক সম্বলিত পতাকা। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে চারপাশ।

জনসভায় যোগ দিতে পুঠিয়া থেকে আসা কর্মী শিবলি সাদিক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম তিনি রাজশাহীতে আসছেন। আমরা সবাই উচ্ছ্বসিত। তারেক রহমানকে এক নজর দেখতে তিন ঘণ্টা আগে থেকেই এসে বসে আছি।” যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে বিকেলে বিমানযোগে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে পৌঁছে জে এম সেন হলের রহমতগঞ্জ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন এবং সবশেষে রাতে সামরিক বিমানে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

পড়ুন : ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেন রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন জারি

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন