নারীর স্বাবলম্বিতায় দোস্ত এইডের উদ্যোগ, সেলাই মেশিন পেলেন ১০০ নারী

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে জামালপুরে অসচ্ছল পরিবারের ১০০ নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেছে মানবিক সহায়তামূলক সংস্থা দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি। সংস্থাটির এ উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, পারিবারিক আয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার পথ সুগম হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে জামালপুর বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আব্দুল হাকিম স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন।

দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংস্থাটির প্রজেক্ট ম্যানেজার আবুল কায়েস।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুস সাকিব, মানবাধিকার সংগঠক জাহাঙ্গীর সেলিম, জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফজলে এলাহি মাকাম এবং দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির হেড অব অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড অ্যাডমিন কহিনুর আলম চৌধুরী। এ ছাড়া সংস্থাটির অপারেশন ম্যানেজার জহুরুল ইসলাম, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সংস্থার কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ একটি পরিবারকে সচ্ছল করার পাশাপাশি সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নারীদের কর্মদক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হলে তাঁরা নিজেরা আয় করার পাশাপাশি পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও অবদান রাখতে পারবেন। এ ধরনের উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়ন, আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক।

সভাপতির বক্তব্যে দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি তাঁদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করাই দোস্ত এইডের অন্যতম লক্ষ্য। অনেক নারী সেলাইয়ের কাজ জানলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে মেশিন কিনতে পারেন না। তাঁদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার মাধ্যমে আয়-রোজগারের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে উপকারভোগী নারীরা নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কাজের পরিধি বাড়িয়ে অন্য নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করতে পারবেন।

জামালপুর সদর থানার ওসি নাজমুস সাকিব বলেন, নারীদের কর্মসংস্থান ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে পরিবারে তাঁদের মর্যাদা বাড়ে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলা ও তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মানবাধিকার সংগঠক জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। নারীদের শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়াই যথেষ্ট নয়; তাঁদের আয় করার উপকরণ ও উপযুক্ত সুযোগও তৈরি করতে হবে। দোস্ত এইডের এ উদ্যোগ নারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে।

জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফজলে এলাহি মাকাম বলেন, একটি সেলাই মেশিন একজন নারীর জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। এর মাধ্যমে একজন নারী ঘরে বসেই আয় করতে পারবেন, পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে ভূমিকা রাখতে পারবেন এবং ধীরে ধীরে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারবেন। এ ধরনের উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে গণমাধ্যমসহ সমাজের সব পর্যায়ের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

আয়োজকরা জানান, সেলাইয়ের কাজ জানেন, কিন্তু আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে মেশিন কিনতে পারছিলেন না—এমন ১০০ নারীকে এ সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। সেলাই মেশিন পাওয়ায় তাঁরা নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় শুরু করার বাস্তব সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবারের সচ্ছলতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে পারবেন তাঁরা। ভবিষ্যতে কাজের পরিধি বাড়লে অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (এসডিজি) লক্ষ্য অর্জনেও এ ধরনের কার্যক্রম সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে ২০১৮ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানবিক সহায়তা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মানুষের জরুরি প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে সংস্থাটি বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

পড়ুন : কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়: ইশরাক ইস্যূতে আইনমন্ত্রী

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন