‎‎স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে বিস্ফোরক পোস্ট হাসনাত আবদুল্লাহর

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর পদত্যাগ কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিস্ফোরক পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। আজ সোমবার দুপুরে তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দেশের রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। অনলাইনে হাসনাত আব্দুল্লার পোস্টটি নিয়ে ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
‎
‎প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন:

বিজ্ঞাপন

ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ প্রশ্ন তোলেন, “একজন প্রতিমন্ত্রী হয়েও কেন জনাব ইশরাক হোসেনকে নিজেই অস্ত্র হাতে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে হলো, সরকারের কাছে এই প্রশ্নের জবাব চাওয়া জরুরি।” তাঁর মতে, এ ঘটনার পেছনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যদি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করত, তবে একজন প্রতিমন্ত্রীকে সরাসরি এভাবে মাঠে নামতে হতো না।

তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতির দায় শুধু ইশরাক হোসেনের একার নয়, বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোরও রয়েছে। যদি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়ে থাকে, তবে সেই ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপরও বর্তায়।

ব্যক্তিকে সরিয়ে দেওয়াই কি সমাধান?

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইশরাক হোসেনকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন বা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এনসিপি নেতা বলেন, “একজন প্রতিমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়াই যদি সমস্যার সমাধান হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কীভাবে?” তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা কাজ না করলে পরোক্ষভাবে তা পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই নির্দেশ করে।
‎
‎উদাহরণ হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শনের বিষয়টি টেনে এনে বলেন, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও তদারকি ব্যবস্থা রয়েছে। সেই ব্যবস্থাগুলো যথাযথভাবে কাজ করলে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি টয়লেট বা এসব বিষয় পরিদর্শনে যেতে হতো না।
‎
‎স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা

পোস্টের শেষভাগে হাসনাত আবদুল্লাহ সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ঘের দখল, দুর্নীতি ও ঘুষের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের ব্যর্থতার বলি হতে হচ্ছে ইশরাক হোসেনদের মতো তরুণদের।
‎
‎তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্যক্তিকে সরিয়ে দিয়ে সাময়িকভাবে সংকট সামাল দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার সমাধান হয় না। রাষ্ট্রকে কার্যকর করতে হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় সমস্যার মূল জায়গাটি আড়াল করা ছাড়া আর কিছুই অর্জিত হবে না।
‎
‎বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসনাত আবদুল্লাহর এই স্ট্যাটাসটি রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পড়ুন : ইশরাকের সংবাদ সম্মেলনের মূল বক্তব্য ও সাফাই

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন