ধর্মীয় উৎসবের গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী মন্তব্য করেন, কোনো নির্দিষ্ট সামাজিক বা ধর্মীয় সীমানায় উৎসব আবদ্ধ থাকে না। উৎসবের সর্বজনীন আহ্বান সমাজের সব সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি ভাই ভাই হিসেবে শান্তিতে বসবাস করার প্রেরণা যোগায়। তিনি উল্লেখ করেন, “সমাজে বিদ্যমান অসত্য ও দানবীয় শক্তিকে বিনাশ করে সত্য, ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠাই দুর্গাপূজার মূল মর্মবাণী।”
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস যার যার ব্যক্তিগত হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে অধিকার সবার সমান।” প্রতিটি নাগরিক যেন নিজের ধর্মীয় উৎসব সম্পূর্ণ নিরাপত্তা, শান্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপনে বিএনপি সরকারের গৃহীত উদ্যোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পূজার ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে, পূজা মণ্ডপগুলোতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের জন্য সম্মানীর বিষয়টি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের হাজার বছরের লোকজ সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এ দেশের মানুষ শত শত বছর ধরে একই ভাষা, পোশাক ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরস্পরের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। দেশের এই হাজার বছরের সম্প্রীতির পরিবেশ বিনষ্ট করতে দেশি-বিদেশি নানামুখী ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, ধর্মপ্রাণ ও অসাম্প্রদায়িক জনগণ সেই চক্রান্ত কখনোই সফল হতে দেবে না।
উক্ত মণ্ডপ পরিদর্শন অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেবাশীষ পাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুর রহমান, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
পড়ুন : কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়: ইশরাক ইস্যূতে আইনমন্ত্রী
সা/


