২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর রেফারির সমালোচনা করে শাস্তির মুখে পড়েছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তাকে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। একই ঘটনায় মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকোকে পাঁচ ম্যাচ এবং দলের পরিচালক ইব্রাহিম হাসানকে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ) এ তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেয় মিশর। ম্যাচের পর রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ৬০ বছর বয়সী কোচ হোসাম হাসান। তার অভিযোগ, রেফারির ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেতে হয়েছে দলকে। ম্যাচ শেষে সাক্ষাৎকারে রেফারিকে অপমান করার অভিযোগে শাস্তি পেয়েছেন ফরোয়ার্ড জিকোও।
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। কিন্তু শেষ দিকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে শেষ আটে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টাইনরা। অন্যদিকে, হতাশাজনক বিদায় নিতে হয় মিশরকে।
ম্যাচের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষ ছিল মিশরীয় শিবিরে। ৫৮ মিনিটে ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকোর একটি গোল ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির সাহায্যে বাতিল করা হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, গোলের আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় মিশরের এক ফুটবলার ফাউল করেছিলেন। ফলে গোলটি বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন রেফারি।
ম্যাচের শেষ দিকে হামদি ফাথির ওপর ফাউলের অভিযোগ তুলে পেনাল্টির দাবি জানায় মিশর। তবে রেফারি সেই আবেদনে সাড়া না দিয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরপরই পাল্টা আক্রমণে গিয়ে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের হার নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করতে হয় মিশরকে।
ম্যাচের রেফারিং নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই রেফারিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ফিফার রেফারিবিষয়ক প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা। তার মতে, রেফারিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য তাদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
বিশ্ব ফুটবলে রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা নিয়ে দলগুলোর অসন্তোষ থেকেই যাচ্ছে। মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচের ঘটনাও সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে।
নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, শাস্তির বিস্তারিত কারণ জানতে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির কাছে আবেদন করা হয়েছে। সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে আপিল করা সম্ভব কি না, তা বিবেচনা করবে সংস্থাটি।
এই নিষেধাজ্ঞা মিশরের জাতীয় দলের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। আগামী নভেম্বরে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বে মালাউইয়ের বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে কোচ হোসাম হাসান ও পরিচালক ইব্রাহিম হাসানকে নাও পেতে পারে দলটি। এ ছাড়া মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতির প্রথম ম্যাচেও তাদের অনুপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, পাঁচ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে মোস্তফা জিকো জুন মাস পর্যন্ত মাঠের বাইরে থাকতে পারেন।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এবার শাস্তির মুখে পড়ল মিশরীয় শিবির। তবে ফিফার সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ জানার পর মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আপিলের পথে হাঁটবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
পড়ুন:অতলের শতকে জিম্বাবুয়েকে বিরাট লক্ষ্য দিল আফগানিস্তান
ইমি/


