গতকাল সকাল ৭টায় আবুধাবি থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের BS350 ফ্লাইটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন যাত্রী কামরুল ইসলাম (পাসপোর্ট নং A13248461)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দার কর্মকর্তারা আগে থেকেই গ্রিন চ্যানেলে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। যাত্রী ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার বহনের ঘোষণা দিলেও অতিরিক্ত স্বর্ণ থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে অন্যান্য সংস্থার উপস্থিতিতে ব্যাগেজ তল্লাশি করে ফ্রাইপ্যান ও সবজি গ্রেটারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো ৪টি খণ্ডিত স্বর্ণবার, মোট ৪৬৬ গ্রাম উদ্ধার করা হয়।
ঘোষিত ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ মোট ৫৬৬ গ্রাম স্বর্ণ আটক করা হয়, যার শুল্ক-করাদিসহ আনুমানিক মূল্য ৯৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা—প্রায় ১ কোটি টাকা। সকালের অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সামনে আসে স্বর্ণ চোরাচালানের আরও বিস্ময়কর কৌশল। সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে মালদ্বীপ থেকে আগত ইউএস -বাংলা এয়ারলাইন্সের BS338 ফ্লাইটের দুই যাত্রী Mohammed Solaiman (পাসপোর্ট নং A22382650) এবং Jobayed Ahmad (পাসপোর্ট নং A23335562)-এর রেক্টামে লুকানো অবস্থায় প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩টি করে মোট ৬টি ডিম্বাকৃতির স্বর্ণপেস্টের বস্তু উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ছয়টি বস্তুর মোট প্রাথমিক ওজন ২ কেজি ৭৩৪ গ্রাম (২.৭৩৪ কেজি) এবং আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।
তবে প্রকৃত স্বর্ণের পরিমাণ নির্ধারণে আসামীসহ আটক ও মামলা হওয়ায় আলামতের যথাযথতা সংরক্ষণের স্বার্থে গোল্ড পোস্টগুলো অবিকৃত রেখে উপযুক্ত পরীক্ষা শেষে বিশুদ্ধ স্বর্ণের ওজন ও প্রকৃত মূল্য নিশ্চিত হওয়া যাবে।
একদিনে প্রায় ৫ কোটি টাকার স্বর্ণ ও স্বর্ণপেস্টের বস্তু: চোরাচালানের দুই অভিনব কৌশল উদ্ঘাটন
একদিকে নিত্যব্যবহার্য রান্নার সরঞ্জামের ভেতরে স্বর্ণবার, অন্যদিকে মানবদেহের অভ্যন্তরে ডিম্বাকৃতির স্বর্ণপেস্ট—একই দিনে দুই বিমানবন্দরের দুটি অভিযান স্বর্ণ চোরাচালানের পরিবর্তিত কৌশল সামনে এনেছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (CIID) গোপন তথ্য, নিবিড় নজরদারি ও ঝুঁকিভিত্তিক যাত্রী তল্লাশির মাধ্যমে স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
চোরাচালানকারীরা বদলাচ্ছে কৌশল, কাস্টমস গোয়েন্দা বাড়াচ্ছে নজরদারি।
পড়ুন : নাটোরে ওভারটেকিং করতে গিয়ে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ঘে নিহত ১৪
সা/


