স্বৈরাচার ও একটি দল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

স্বৈরাচার ও একটি রাজনৈতিক দল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “জনগণের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে কিছু দল নানা কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হচ্ছেন, তখন এসব অপতৎপরতা দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।”

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে (হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ) আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কিছু দল নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কর্মসূচি যারা দেয়, তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না। জনগণের উন্নয়ন হচ্ছে—এটি কিছু দল সহ্য করতে পারছে না। তারা চায় না, সরকারের নেয়া জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়িত হোক।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে যারা টিকিট বিক্রি করেছিল, তারা এবং সীমান্তের ওপারে থাকা পলাতক শক্তি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য এক হয়েছে। জনগণের উন্নয়ন যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

একটি দলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ১৯৭১ সাল থেকে যখনই সুযোগ পেয়েছে, তখনই দেশকে ভিন্ন পথে নেয়ার চেষ্টা করেছে। ১৯৭১ সালে যেমন ধোঁকা দিয়েছে, ২০২৪ সালেও তেমন ধোঁকা দিয়েছে। অনেকে মুখে ২০২৪ সালের চেতনাকে ধারণ করার কথা বললেও অন্তরে তা ধারণ করে না। বিএনপি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান—দুটিকেই ধারণ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা দেশ গড়ার নীতিতে বিশ্বাস করে না, তারা দেশকেও বিশ্বাস করে না। দেশের ভাগ্য বিদেশ থেকে কেউ এসে গড়ে দেবে না; নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই গড়তে হবে। আগামী পাঁচ বছর দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে জনগণের সহযোগিতা ও পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কৃষক ও কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচলে। এ কারণে কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং কৃষকের জীবনমান পরিবর্তনে সরকার কাজ করছে।” এরই অংশ হিসেবে সারা দেশের ৩৮ হাজার আখচাষিকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার কথা জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে জনসভায় ডিজিটাল বোতাম চেপে একযোগে আখচাষিদের মাঝে প্রণোদনার অর্থ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় উপস্থিত হাজারো জনতাও সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করেন। এই কর্মসূচির আওতায় ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির মাঝে মোট ১২ কোটি ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা কৃষি প্রণোদনা প্রদান করা হয়। এছাড়া চলতি বছরে ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে ৪০ লাখ কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে এবং গত আট মাসে সারা দেশে ৮০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্প খাতের প্রসারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রান্তিক পর্যায়ে মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সারা দেশের উপজেলা হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১৫০-তে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি, আগামী বছর ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালুর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে জনসভাস্থলে আসার পথে সড়কের দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান এবং প্রধানমন্ত্রীও বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে তিনি জনসভাস্থলে পৌঁছালে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা তাকে স্বাগত জানান।

জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা, এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

জনসভা শেষে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। এরপর রাজশাহীর কর্মসূচি শেষ করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে এদিন সকালে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে দুটি পথসভায় অংশ নেওয়ার পর রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি।

পড়ুন : ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৬৬

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন