গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ২১৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগে নতুন করে কারও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়। বুলেটিনে ১৯ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে ২০ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৪২ জনের শরীরে হাম রোগ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি ২০ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়াল ২ লাখ ২৫ হাজার ৭৬৮ জনে। অন্যদিকে, একই সময় পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ২৩ হাজার ৯৯৯ জনে।
হাসপাতালে ভর্তির তথ্য জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৭৬ জন রোগী। ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম নিয়ে মোট ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৬১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৮ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিত হামে এই সময়ে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, নিশ্চিত হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট ১০৪ জনের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
হামের প্রধান প্রধান লক্ষণসমূহ:
স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যানুযায়ী, হামে আক্রান্ত হলে রোগীর দেহে নানা ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি লক্ষণ হলো:
তীব্র জ্বর: হামের শুরুতেই শরীর বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অনেক সময় এই জ্বর ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।
সর্দি ও কাশি: অনবরত হাঁচি দেওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং তীব্র শুকনো কাশি হওয়া হামের প্রাথমিক ও সাধারণ লক্ষণ।
চোখের সমস্যা: আক্রান্ত শিশুর চোখ লাল হয়ে যায়, অনবরত পানি পড়ে এবং আলোতে তাকালে চোখে তীব্র অস্বস্তি বা ব্যথার অনুভূতি হয়।
মুখের ভেতর সাদা দাগ (কপলিক স্পট): সাধারণত জ্বর আসার দুই থেকে তিন দিনের মাথায় মাড়ির পাশে বা গালের ভেতরের চামড়ায় ক্ষুদ্র লবণের দানার মতো সাদাটে দাগ ফুটে ওঠে।
লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ: জ্বর শুরু হওয়ার ৩ থেকে ৫ দিন পর প্রথম কানের পেছন ও মুখে লাল দানাদার ফুসকুড়ি দেখা দেয়। পরবর্তীতে তা ঘাড়, বুক, পিঠ ও হাত-পাসহ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
শারীরিক দুর্বলতা ও অরুচি: পেশিতে ব্যথাসহ শরীর ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খাবারের প্রতি তীব্র অরুচি তৈরি হয়। ক্ষেত্রবিশেষে পাতলা পায়খানা কিংবা বমিও হতে পারে।
পড়ুন : ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৬৬
সা/


