রাজধানীর পূর্বাচলে অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাদক ও ডিজে পার্টির আসর থেকে ২৬ জন নারীসহ মোট ৮৫ জনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটকদের মধ্যে একজন আফগানিস্তানের নাগরিকও রয়েছেন। এদিকে এই ঘটনার পর অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে পুলিশ সদর দপ্তরের পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট শাখা থেকে সরিয়ে হেডকোয়ার্টার্স শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আব্দুল্লাহ আল জহিরকে হেডকোয়ার্টার্স শাখায় সংযুক্ত করা হলো এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
পূর্বাচলের বাড়িতে ডিবির অভিযান ও উদ্ধারকৃত আলামত:
মঙ্গলবার বিকেলে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম ও গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের ডিসি ইলিয়াস কবির অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। ডিবির সূত্র জানায়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে পূর্বাচলে অবস্থিত অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন ওই বাড়িতে অভিযান শুরু হয়, যা শেষ হতে মঙ্গলবার সকাল গড়ায়।
দীর্ঘ এক বছর ধরে বাসাটি এয়ারবিএনবির মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদী ভাড়ায় চালিত হলেও এর আড়ালে নিয়মিত মাদক সেবন, মাদক কেনাবেচা এবং রাতভর ডিজে পার্টির আখড়া গড়ে উঠেছিল। অভিযানে ওই বাড়ি থেকে পাঁচ বোতল মদ, সিনথেটিক মাদক, গাঁজা, ইয়াবা, কনডম এবং ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
ডিসি ইলিয়াস কবির জানান, “বাসাটি এয়ারবিএনবির মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। একজন কো-হোস্ট ও হোস্টের মাধ্যমে সেটি পরিচালিত হচ্ছিল। কো-হোস্ট মাহবুবুল আলমকে আটক করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে কয়েকজন তরুণী রয়েছেন, যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। তবে তাদের ছবি বা নাম-ঠিকানা প্রকাশ করার আইনগত সুযোগ নেই।”
তদবির ও অবৈধ আয়:
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, অভিযান চলাকালে আটক কো-হোস্টকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির নিজে তদবির করেছিলেন। তবে পুলিশ সদস্য ও ডিএমপির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে অভিযান অব্যাহত রাখেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট ডিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অতিরিক্ত ডিআইজির প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ওই বাসায় মাদক কারবারিদের আখড়া গড়ে উঠেছিল। এসব অবৈধ আয়োজন থেকে যে আয় হতো, তার প্রায় ৭০ শতাংশ টাকা অতিরিক্ত ডিআইজির তহবিলে জমা পড়ত বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণীদের নিয়ে রাতভর আনন্দ-উল্লাস ও অশ্লীল নৃত্যের আসরে দেশ-বিদেশের উচ্চবিত্ত পুরুষদের আনাগোনা ছিল।
ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকরা বক্তব্য জানতে অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর ফোন কেটে দেন। বর্তমানে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং জব্দ করা আলামতের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পড়ুন : অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে ডিবির অভিযান, মাদকসহ আটক ৮৪
সা/


