ব্যবস্থাপনা পরিচালকের-এমডি পদ শূন্য হওয়া সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে বেসরকারি খাতে থেকে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা নীতিমালায় এমন সুযোগ উন্মুক্ত হওয়ার পর, সরকার বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরতদের সরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় বসাতে চায়।
এরই মধ্যে কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের নাম আলোচনায় এসেছে, যাদের সরকার প্রাথমিক বিবেচনায় রেখেছেন। তবে, সরকারের এমন ইচ্ছা জানতে পেরে, ক্ষুব্দ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সরকারি ব্যাংকের সব স্তরের কর্মীরা। তারা বলছেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর নির্বাহীরা নিজেরাই অনেক ব্যাংক গভীর সংকটে ফেলেছেন। অনেক ব্যাংক এখন মার্জারের প্রক্রিয়ায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যাংকাররা বলছেন, বেসরকারি ব্যাংকের নির্বাহীরা কেবল ব্যাংকের পরিচালক, চেয়ারম্যানের আদেশ পালনে ব্যস্ত থাকেন। তারা কেবল বোর্ড ম্যানেজ করে চাকরি রক্ষা করেন। বিপুল পরিমাণ বেতন, কিন্ত এখন সরকারি ব্যাংককে কম বেতনের চাকরিতে আসতে আগ্রহ কেন, সেই প্রশ্নের উত্র জরুরি।
সূথ্র বলছে, সাউথ ইস্ট ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুল আলমকে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি করা হতে পারে। আর বিডিবিএল এর এমডি হতে পারেন নুর মোহাম্মদ। তিনি বর্তমানে যমুনা ব্যাংকে ডিএমডি হিসেবে কর্মরত।
সরকার মনে করছে, বেসরকারি খাত থেকে এমডি আনা হলে, সরকারি ব্যাংকগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করা যাবে, কমবে অনিয়ম দুর্নীতি। তবে, এর ফলে সরকারি ব্যাংকগুলোর এই শীর্ষ পদ হারাবে এসব ব্যাংকে যারা ডিএমডি পদে কর্মরত রয়েছেন।
একটি সরকারি ব্যাংকের ডিএমডি নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুপুরে নাগরিককে বলেন, এতো বছর ব্যাংককে সেবা দিয়ে গেলাম। নিশ্চয়ই একটা প্রত্যাশা তৈরি হয়, শেষ জীবনে এমডি হয়ে অবসরে যাবো। কিন্তু সে সুযোগ আটকে দেয়া হচ্ছে। সরকারি ব্যাংকগুলোর অনিয়ম দুর্নীতির দায় কেবল ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নয়, এর পেছনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও পর্ষদের দায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এতে সরকারি ব্যাংকগুলোতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। বাইরে থেকে আসা এমডিকে কোন কর্মকর্তা মানবে না। এতে ব্যাংকের ক্ষতি। তাছাড়া ব্যাংকের চিত্র জানতে জানতে তার সময় শেষ হয়ে যাবে।
সম্প্রতি সরকার একই দিনে সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ করে। তার আগে অপসারণ করা হয় অগ্রণী ব্যাংকের এমডিকে। তবে রাজনৈতিক বিবেচনায় নাকি পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে তাদের অপসারণ করা হয়েছে তা জানায়নি সরকার।
পড়ুন : অতিরিক্ত উৎপাদনে আলুর দরপতন, কেজিতে ১৪ টাকা পর্যন্ত লোকসানে কৃষক


