প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো দুর্গাপূজা

‎প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ছয় দিনের পূজা-অর্চনা, আনন্দ-উৎসব, সাংস্কৃতিক আয়োজনের পর দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান তারা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ওয়াইজঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে দেবী দুর্গার প্রতিমাগুলো বিসর্জন দেওয়া হয়।

দুপুর থেকেই ঢাক-ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টার বাদ্যের তালে তালে রাজধানীর বিভিন্ন মন্দির ও মহল্লা থেকে শোভাযাত্রা করে প্রতিমাগুলো বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে আনা হয়। পরে নৌকাযোগে সেগুলো নদীর মাঝখানে নিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়।এ সময় চারদিকে ছিল বিষাদের সুর।

ভক্তদের কারো চোখে দেখা যায় অশ্রু, কারো ঠোঁটে শোনা যায় দেবীর বন্দনা। কেউ শেষ মুহূর্তে মায়ের কাছে মঙ্গল কামনা করেন। কেউবা নদীর পানি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের শরীরে ছিটিয়ে নেন।

দশমীর সকালে মণ্ডপ ও মন্দিরে পূজার অন্যতম প্রধান আচারে অংশ নেন নারীরা। দুর্গার পায়ে সিঁদুর নিবেদন করে তারা দেবীর শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর একে অপরের গায়ে সিঁদুর মেখে জীবনের সমৃদ্ধি কামনা করেন।

প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে রাজধানীতে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিসর্জন কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পুলিশের বিশেষ দল সোয়াট ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কয়েক শ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। এ ছাড়া আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলসহ অন্যান্য দলের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

চট্টগ্রামে ৪ স্থানে প্রতিমা বিসর্জন

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জনের মূল আনুষ্ঠানিকতা। এ ছাড়া নগরের অভয়মিত্র ঘাট, কালুরঘাট ও উত্তর কাট্টলীর রানী রাসমণি ঘাটেও প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

বিকেল গড়াতেই নগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে আলোকসজ্জিত ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে পৌঁছাতে শুরু করেন ভক্তরা। দেখতে দেখতে সৈকত এলাকায় ঢল নামে বিপুলসংখ্যক মানুষ। দেবীকে বিদায় জানানোর আগে প্রতিমায় তেল, সিঁদুর এবং পান-মিষ্টি নিবেদন করেন ভক্তরা। ঢাকের তালে নাচ, গান ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো বিসর্জনস্থল। আনন্দের উৎসব শেষে দেবীকে বিদায় জানাতে গিয়ে অনেক ভক্তের চোখে ছিল অশ্রু।

এ বছর চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতকে প্রতিমা বিসর্জনের প্রধান স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। পাশাপাশি সুশৃঙ্খলভাবে বিসর্জন সম্পন্ন করতে অভয়মিত্র ঘাট, কালুরঘাট ও রানী রাসমণি ঘাটেও পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়। শহরের বিভিন্ন প্রান্তের মণ্ডপ থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা নিয়ে বিসর্জনস্থলে যান সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

বিসর্জনকে কেন্দ্র করে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের সংযোগ সড়কে নিরাপত্তা-ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও বিশেষ ডুবুরি দল।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নারায়ণগঞ্জে প্রতিমা বিসর্জনস্থল পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজিসহ সংশ্লিষ্টরা

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন