সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এক ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধের জমি প্রতারণার মাধ্যমে লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক এক ইউপি সদস্য ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে সাদা কাগজে টিপসই নিয়ে ১৪ শতক কৃষি জমি নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। এই ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এরআগে, গত ৪ অক্টোবর উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নের বাঘলপুর গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে। দলিলগ্রহীতারা হলো, একই গ্রামের মৃত ময়নাল সরকারের ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ এবং তার দুই ভাই শাহ আলম ও শাহাদাৎ হোসেন। জমির মালিক আজিজুল হক একই গ্রামের মৃত মফিজ সরকারের ছেলে।
ভুক্তভোগী আজিজুল হকের অভিযোগ, বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে কয়েকটি সাদা কাগজে টিপসই নেন আবুল কালাম আজাদ। এ সময় তার সাথে আরও দু-একজন ছিলেন। টিপসই নেওয়ার পর বয়স্কভাতার টাকা হিসেবে তাকে ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোট মিলিয়ে মোট ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়ড়া ইউনিয়নের বাঘলপুর মৌজার আরএস ২২১ নম্বর দাগে থাকা ১৪ শতক ফসলি জমি ৫ লাখ ৭১ হাজার টাকা মূল্য দেখিয়ে গত ৪ অক্টোবর রেজিস্ট্রি করা হয়। আজিজুল হক অসুস্থ এমন কারণ দেখিয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পরিবর্তে উল্লাপাড়া পৌর শহরের ঝিকিড়া মহল্লার একটি বাড়িতে কমিশনের মাধ্যমে দলিল সম্পাদন করা হয়।
আজিজুলের পরিবারের দাবি, তিনি মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এ ছাড়া তিনি চোখেও দেখেন না।
এ বিষয়ে আজিজুলের ছেলে ফারুক সরকার বলেন, আমার বাবা মানসিক অসুস্থ। বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আবুল কালাম ও তার দুই ভাই কৌশলে বাবার ১৪ শতক জমি লিখে নিয়েছেন। তিনি দলিল বাতিলের পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে নয়, আজিজুল হকের হাতে নগদ ৭ লাখ টাকা দিয়ে তারা তিন ভাই এই কৃষি জমিটি কিনেছেন। কোনো অবৈধ পদ্ধতি বা জালিয়াতি করা হয়নি, সরকারি বিধিবিধান মেনেই জমি কিনে নেওয়া হয়েছে।
দলিল লেখক আব্দুল মতিন বলেন, আবুল কালাম জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং দাতা ও গ্রহীতাদের ছবি দিয়ে দলিল তৈরি করতে বলেছিলেন। সে অনুযায়ী কমিশনের মাধ্যমে একটি বাড়িতে দলিল সম্পাদন করা হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, কৌশল ও প্রতারণার মাধ্যমে জমিদাতার নিকট থেকে জমি লিখে নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে সাব-রেজিস্ট্রার ফারহানা আজিজ বলেন, আজিজুল হকের শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে গ্রহীতারা কমিশনের মাধ্যমে বাড়িতে দলিল সম্পাদনের আবেদন করেছিলেন। আবেদন মঞ্জুরের পর তার প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল নাঈমকে সেখানে পাঠানো হয়। পরে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় দলিল লেখককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে জবাব না দেওয়ায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
পড়ুন: সাজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের গোলাগুলি
আর/


