​ডিউটির টেবিলেই থামল হৃদস্পন্দন: সাদুল্লাপুরে দুই আনসার সদস্যের মৃত্যুতে শোকের মাতম

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবে যখন চারদিকে আনন্দের জোয়ার, ঠিক তখনই গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে নেমে এসেছে শোকের মাতম। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে ডিউটির ইউনিফর্ম পরেই পরপারে চলে গেলেন তারা মিয়া (৫০) নামের এক নিবেদিতপ্রাণ আনসার-ভিডিপি সদস্য।
​মাত্র চার দিনের ব্যবধানে উপজেলার দুজন আনসার সদস্যের এমন আকস্মিক ও করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও সহকর্মীদের চোখে এখন শুধু কান্নার জল আর গভীর উদ্বেগ।

বিজ্ঞাপন

​খোঁজ নিয়ে জানা যায়,গত বুধবার (২১ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমীর শেষ দিনে দুপুরের দিকে উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব কিশামত হামিদ সার্বজনীন দুর্গামন্দিরে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন তারা মিয়া। পূজা শুরুর প্রাক্কাল থেকেই তিনি উপজেলার ১৮ নম্বর কেন্দ্রের আওতাধীন ওই মন্দিরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। দায়িত্ব পালনকালেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।


​স্বজনদের ভাষ্যমতে, পূজা শুরুর দিন থেকেই তিনি কিছুটা জ্বরে ভুগছিলেন। কিন্তু নিজের দায়িত্বের প্রতি অবিচল থেকে তিনি কর্তব্যে অনড় ছিলেন। অসুস্থতা মারাত্মক আকার ধারণ করলে দ্রুত তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।


​কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস—রংপুরে নেওয়ার পথেই তার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। দ্রুত তাকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে স্বজনেরা জানান, ডিউটির চাপ আর অসুস্থতার মাঝেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিরবিদায় নিয়েছেন।


​নলডাঙ্গা ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের এই মানুষটির এমন আকস্মিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার পরিবার ও সহকর্মীরা। শোকাহত স্বজনদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার বাতাস।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম হাবিবুল ইসলাম বলেন, “পূজার দায়িত্ব পালনকালে আনসার-ভিডিপি সদস্য তারা মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেওয়ার পথে অবস্থার অবনতি হলে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
​
পূজার আনন্দ ম্লান করে দেওয়া এই ট্র্যাজেডি যেন থামছেই না। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর সকালে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পারভীন বেগম (৪৬) নামের আরেক নারী আনসার সদস্য। তিনি উপজেলার ৩ নম্বর দামোদরপুর ইউনিয়নের কিশামত বড়বাড়ি গ্রামের মফিজল হকের মেয়ে।
​কিশামত বড়বাড়ি সার্বজনীন দুর্গামন্দিরে দায়িত্ব পালনকালে হঠাৎ করে তীব্র পাতলা পায়খানা ও বমিতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন পারভীন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।


​উৎসবের নিরাপত্তায় নিয়োজিত দুই প্রবাসীর এমন আকস্মিক ও পাশাপাশি চলে যাওয়া স্থানীয়দের হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করেছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে নিজের জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেওয়া এই বীর আনসার সদস্যদের আত্মত্যাগ এলাকাবাসী চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।

পড়ুন: সাজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের গোলাগুলি

আর/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন