২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৩৫ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে সন্দেহভাজন হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট প্রাণহানি ১ হাজার ২১৪ জনে দাঁড়াল।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে শুধু সিলেট বিভাগেই হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে ঢাকা বিভাগে ২ জন ছাড়াও চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১১০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনে। এ ছাড়া গত একদিনে নতুন করে ২৫ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ২৩ হাজার ২৭৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে গত ১৫ মার্চ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন।

হামের প্রধান প্রধান লক্ষণসমূহ:

স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্যানুযায়ী, হামে আক্রান্ত হলে রোগীর দেহে নানা ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি লক্ষণ হলো:

তীব্র জ্বর: হামের শুরুতেই শরীর বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অনেক সময় এই জ্বর ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।

সর্দি ও কাশি: অনবরত হাঁচি দেওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং তীব্র শুকনো কাশি হওয়া হামের প্রাথমিক ও সাধারণ লক্ষণ।

চোখের সমস্যা: আক্রান্ত শিশুর চোখ লাল হয়ে যায়, অনবরত পানি পড়ে এবং আলোতে তাকালে চোখে তীব্র অস্বস্তি বা ব্যথার অনুভূতি হয়।

মুখের ভেতর সাদা দাগ (কপলিক স্পট): সাধারণত জ্বর আসার দুই থেকে তিন দিনের মাথায় মাড়ির পাশে বা গালের ভেতরের চামড়ায় ক্ষুদ্র লবণের দানার মতো সাদাটে দাগ ফুটে ওঠে।

লালচে ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ: জ্বর শুরু হওয়ার ৩ থেকে ৫ দিন পর প্রথম কানের পেছন ও মুখে লাল দানাদার ফুসকুড়ি দেখা দেয়। পরবর্তীতে তা ঘাড়, বুক, পিঠ ও হাত-পাসহ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

শারীরিক দুর্বলতা ও অরুচি: পেশিতে ব্যথাসহ শরীর ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খাবারের প্রতি তীব্র অরুচি তৈরি হয়। ক্ষেত্রবিশেষে পাতলা পায়খানা কিংবা বমিও হতে পারে।

পড়ুন : ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন