আরাফাত রহমান কোকো স্মরণে আয়োজিত ‘কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর জমকালো উদ্বোধন হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোঃ মাহফুজুল আলম খান, অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবের এবং সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপনসহ দেশের বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ।
উদ্বোধনী ভাষণে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সারা দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে এক নতুন জোয়ার বইছে। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন যে, এর পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি ও উৎসাহ জুগিয়ে চলেছেন ক্রীড়ামোদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি শুধু একজন ভালো সংগঠকই ছিলেন না, বিশেষ করে ক্রিকেটের উন্নয়নে তাঁর অনন্য অবদান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারে ক্রীড়ানুরাগের ইতিহাস স্মরণ করেন। অ্যাথলেটিক্সকে ক্রীড়ার জননী উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি সুস্থ জাতি গঠন এবং তরুণ প্রজন্মকে বর্তমান সময়ের ভয়াবহ মাদকাসক্তি, মোবাইল আসক্তি ও হতাশা থেকে রক্ষা করার একটাই পথ মাঠে খেলাধুলা করা।
প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির সরকারি উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবৈধ দখলমুক্ত করে মাঠ সংরক্ষণ এবং নতুন মাঠ চিহ্নিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, আর কত দিন আমরা আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের দিকে তাকিয়ে থাকব? আমাদের নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে এবং নিজেদের দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফল করে তুলতে হবে।
নারী অ্যাথলেটদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি স্কুল পর্যায়ে ‘ইন্টার স্কুল স্পোর্টস কম্পিটিশন’ দ্রুত চালুর কথা বলেন। পাশাপাশি, বিশ্বমানের অ্যাথলেট গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি ব্যাংক, বীমা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রীড়ার দীর্ঘমেয়াদী পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
এর আগে বিকেলে জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রতিযোগিতার মশাল প্রজ্বলন করেন সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ মোস্তাক ও সুমিতা রানী। এরপর খেলোয়াড় ও বিচারকদের পক্ষ থেকে প্রতিযোগিতায় সুষ্ঠুভাবে অংশগ্রহণের শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অ্যাথলেট ও ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে এই প্রতিযোগিতার পর্দা উঠল।
পড়ুন : কোকো জাতীয় সামার এ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতার পর্দা উঠছে শুক্রবার


