ফিলিপাইনের ফার্নান্দো বিমানঘাঁটিতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় সামরিক বাহিনীর চারজন পাইলট নিহত হয়েছেন। দুটি এসএফ-২৬০ (SF-260) মডেলের প্রশিক্ষণ বিমানের মধ্যে মাঝআকাশে মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশটির সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে জানানো হয়, শুক্রবার বিকেল ৩টা ৫১ মিনিটে রাজধানী ম্যানিলার সীমান্তবর্তী বাতাঙ্গাস প্রদেশের ফার্নান্দো ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণের সময় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মহড়া চলাকালীন দুটি হালকা বিমান বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি চলে আসলে একে অপরের সাথে সজোরে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের পরপরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমান দুটি ঘাঁটি প্রাঙ্গণের ভেতরেই আছড়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই বিমানের চার পাইলট মৃত্যুবরণ করেন। তবে ঘাঁটির ভেতরে থাকা অন্য কেউ ক্ষতিগ্রস্ত বা হতাহত হননি।
অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উন্মোচনে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ফিলিপাইনের বিমানবাহিনী তাদের বহরে থাকা সবকটি এসএফ-২৬০ মডেলের প্রশিক্ষণ বিমানের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে। বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের স্বজনদের সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে এবং এই শোকাবহ মুহূর্তে পরিবারগুলোর গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এটিই প্রথম নয়; এর আগেও এসএফ-২৬০ মডেলের বিমান নিয়ে ফিলিপাইনে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। চলতি ২০২৬ সালের মে মাসেই দেশটির উত্তরাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় এই মডেলের বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলট মারা যান। এছাড়া ২০২৩ সালেও নিয়মিত উড্ডয়ন অনুশীলনের সময় একটি ‘এসএফ-২৬০ টিপি মার্চেত্তি’ বিমান দুর্ঘটনায় আরও দুই সামরিক কর্মকর্তা প্রাণ হারান। তবে ফিলিপাইনের সামরিক ইতিহাসে এই হালকা বিমানগুলোর বিশেষ ব্যবহার রয়েছে; ২০১৭ সালে দক্ষিণাঞ্চলীয় মারায়ি শহর উগ্রবাদীরা দখল করে নিলে তাদের দমনে টানা কয়েক মাস চলা বিমান অভিযানে এই এসএফ-২৬০ বিমানগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল।
পড়ুন : বিক্ষোভের মুখে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করলো ফ্রান্স
সা/


