একসঙ্গে থাকার চেষ্টা করেও পারিনি, বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে ইমরানের স্ত্রী

দীর্ঘ ১৮ বছরের সম্পর্ক। প্রেম থেকে বিয়ে, এরপর সংসার ও সন্তান। সব মিলিয়ে বলিউড অভিনেতা ইমরান খান ও অবন্তিকা মালিকের সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিনের। কিন্তু একসময় সেই সম্পর্কে ছেদ পড়ে। ২০১৯ সালে আলাদা থাকতে শুরু করেন তাঁরা। এত দিন নিজেদের দাম্পত্য ভাঙন নিয়ে খুব বেশি কথা বলেননি অবন্তিকা। এবার বিচ্ছেদের কারণ ও সেই সময়ের মানসিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। জানিয়েছেন, আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত প্রথমে নিয়েছিলেন ইমরানই। অবন্তিকার কথায়, ‘আমি কখনো এই সিদ্ধান্ত নিতাম না।’

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি সোহা আলি খানের চ্যাট শোয়ে অতিথি হয়ে ইমরানের সঙ্গে সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন অবন্তিকা। সেখানে তিনি জানান, প্রথমে কিছুদিনের জন্য আলাদা থাকার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইমরান। এরপর প্রায় ছয় মাস সময় পেরিয়ে গেলে দুজনের পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

অবন্তিকার ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের বিচ্ছেদের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো একটি বড় ঘটনা কাজ করেনি। অল্প বয়স থেকেই একসঙ্গে ছিলেন তাঁরা। দীর্ঘ ১৮ বছরের সম্পর্কে জীবনের নানা পরিবর্তন, উত্থান-পতন এবং অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে দুজনকে। সময়ের সঙ্গে বদলেছে তাঁদের ব্যক্তিত্ব, চিন্তাভাবনা ও জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি। একসময় সেই পরিবর্তনই সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করেছে বলে মনে করেন অবন্তিকা।

পেছন ফিরে তাকিয়ে তাঁর মনে হয়েছে, সম্পর্কের কোনো এক পর্যায়ে তাঁরা একে অপরের প্রতি যথাযথ সুবিচার করতে পারেননি। ছোট ছোট বিষয় জমতে জমতেই দূরত্ব বেড়েছে। সম্পর্কের সমস্যাগুলো হয়তো একদিনে তৈরি হয়নি, বরং সময়ের সঙ্গে সেগুলো বড় হয়ে উঠেছিল। ফলে শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে থাকার চেষ্টা করেও আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

সম্পর্কে প্রত্যাশা এবং ব্যক্তিগত সুখের দায়িত্ব নিয়েও নিজের উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন অবন্তিকা। তাঁর মতে, কম বয়সে অনেকেই মনে করেন, তাঁদের সুখী রাখার দায়িত্ব সঙ্গীর। কিন্তু নিজের ভালো থাকার দায়িত্ব যে নিজেরই, তা বুঝতে অনেক সময় লাগে।

অবন্তিকার এই উপলব্ধি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, সম্পর্কের কাছে অতিরিক্ত বা অবাস্তব প্রত্যাশা তৈরি হলে অজান্তেই সেই সম্পর্কের ওপর চাপ বাড়তে পারে। দুজন মানুষের চিন্তাভাবনা, চাহিদা ও জীবনযাপনের ধরন সব সময় এক রকম থাকে না। তাই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং নিজেদের পরিবর্তনকে মেনে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

অবন্তিকা জানিয়েছেন, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দুজনেই নিজেদের মতো করে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। এমন সময়ও এসেছে, যখন তাঁদের একসঙ্গে থাকা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। তারপরও বারবার নতুন করে চেষ্টা করতে চেয়েছেন তাঁরা।

কিন্তু সব চেষ্টা সত্ত্বেও সম্পর্ককে আগের জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার বাস্তবতা মেনে নেওয়া তাঁর জন্য কঠিন ছিল। কারণ, এই সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল জীবনের বড় একটি সময়, ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনা এবং একসঙ্গে গড়ে তোলা সংসার।

বিচ্ছেদের প্রথম দিকের সময়টা যে তাঁর জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল, তা-ও জানিয়েছেন অবন্তিকা। তাঁর মনে হয়েছিল, ভবিষ্যৎ নিয়ে এত দিন ধরে যে ছবি এঁকেছিলেন, তা যেন এক মুহূর্তে বদলে গেছে। যে সম্পর্ককে জীবনের সবচেয়ে কাছের বলে মনে করেছিলেন, তার শেষ মেনে নেওয়া সহজ ছিল না।

অতীতের দিকে ফিরে তাকিয়ে নিজের ১৯ বছর বয়সী সত্তাকে পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ পেলে জীবন আগে গুছিয়ে নেওয়ার কথা বলতেন অবন্তিকা। তাঁর মতে, প্রেম, বিয়ে ও সন্তান—জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের পায়ে দাঁড়ানো এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠার জন্য সময় দেওয়া জরুরি।

নিজের পরিচয়, পছন্দ ও চাহিদা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জীবনের বড় সিদ্ধান্তগুলো নিতে সাহায্য করে। অবন্তিকার এই বক্তব্যে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও আত্মনির্ভরতার গুরুত্ব উঠে এসেছে।

দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কে থাকার পর ২০১১ সালে বিয়ে করেছিলেন ইমরান খান ও অবন্তিকা মালিক। তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ২০১৯ সালে আলাদা থাকতে শুরু করার পর তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা হলেও এত দিন বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেননি অবন্তিকা।

এবার তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে দীর্ঘ সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কষ্ট, প্রত্যাশার পরিবর্তন এবং ব্যক্তিগত উপলব্ধির কথা। একই সঙ্গে স্পষ্ট হয়েছে, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলেও সেই অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ নিজের জীবন ও সম্পর্ক সম্পর্কে নতুন করে অনেক কিছু শিখতে পারেন।

পড়ুন:বাসে বাসে চিঠি দিয়ে প্রচার, এই সিনেমার আয় এখন ১১৪ কোটি

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন