ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার আইড়ল গ্রামে দুটি মসজিদে নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে পুরোনো মসজিদ ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার সকাল থেকে গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ বাড়িঘর ছেড়ে চলে গেছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। গ্রামটির অনেক বাড়িতে পুরুষদের দেখা যায়নি। এ ঘটনায় করা লিখিত অভিযোগের পর পুলিশ রাতেই চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার দুপুরে উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের আইড়ল গ্রামে জুমার নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে শনিবার সকাল থেকে সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আইড়ল গ্রামে পূর্বপাড়ায় পুরোনো আইড়ল জামে মসজিদ রয়েছে। পশ্চিমপাড়ায় নতুন আরেকটি মসজিদ নির্মাণের পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। প্রায় ছয় বছর ধরে আইনি জটিলতা চলার পর গত সেপ্টেম্বর থেকে নতুন মসজিদে নামাজ আদায় শুরু হয়। তবে পুরোনো মসজিদেও নামাজ চলছিল। দুটি মসজিদের দূরত্ব মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ গজ।
শুক্রবার দুই পক্ষ নিজ নিজ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে। পরে নতুন মসজিদের পক্ষের লোকজন পুরোনো মসজিদে হামলা চালিয়ে মিম্বর ও দেয়াল ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
উত্তেজনা বিবেচনায় শুক্রবার দুই মসজিদেই পুলিশ সদস্যরা নামাজ আদায় করেন। পরে পুলিশ চলে যাওয়ার পরপরই পুরোনো মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। খবর পেয়ে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদও। বর্তমানে ভাঙা মসজিদেই নামাজ আদায় করছেন পুরোনো মসজিদের পক্ষের লোকজন।
এ ঘটনায় আইড়ল গ্রামের আতিকুল বাদী হয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগের পর রাত আনুমানিক দুইটার দিকে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা হলেন তোফায়েল (২০), সায়েম (২০), মতিউর রহমান (৪২) ও জুবায়ের (২১)। তাঁদের সবার বাড়ি আইড়ল গ্রামে।
গ্রেপ্তারের পর থেকেই গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। শনিবার সকালে ঘটনাস্থল ও আশপাশের বাড়িঘরে গিয়ে পুরুষদের দেখা যায়নি। একটি বাড়ির উঠানে এক শিশুকে খেলতে দেখা গেলেও কাছে ডাকতেই সে ঘরের ভেতরে চলে যায়। ঘরের ভেতর থেকে দু-একজন নারী উঁকি দিলেও তাঁরা কথা বলতে চাননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী বলেন, ‘রাতে চারজনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই গ্রামের পুরুষেরা গা ঢাকা দিয়েছেন।’
কর্ণেল বাজারের ব্যবসায়ী আনিস মিয়াও বলেন, গ্রেপ্তার এড়াতেই গ্রামের পুরুষেরা বাড়িঘর ছেড়ে সরে গেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মুজিবুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নতুন মসজিদের পক্ষের লোকজন পুরোনো মসজিদে হামলা চালিয়ে মিম্বর ও দেয়াল ভেঙে ফেলেছেন। এখন ভাঙা মসজিদেই নামাজ আদায় করা হচ্ছে।
আখাউড়া থানার ওসি মো. জাবেদ উল ইসলাম বলেন, ‘মসজিদ ভাঙা ঠিক হয়নি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান ওসি জাবেদ উল ইসলাম।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, মসজিদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। মসজিদ ভাঙার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ মামলা মামলা করেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবেও মীমাংসার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, মসজিদ ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পড়ুন : সরকারি প্রজ্ঞাপন ছাড়াই ছবি তোলা বন্ধ, গাংনী নির্বাচন অফিসে নতুন ভোটারদের ভোগান্তি
সা/


