দেশের বাজারে টানা চতুর্থ দফায় সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সোনার নতুন দর সমন্বয়ের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই মূল্য কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের জরুরি বৈঠক ও নতুন দর নির্ধারণ
রোববার সকালে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারের দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে টানা চার দফায় দেশের বাজারে ভরিপ্রতি সোনার দাম মোট ১০ হাজার ৪৩৯ টাকা হ্রাস পেল।
সোনার নতুন মূল্যতালিকা
বাজুস ঘোষিত সর্বশেষ মূল্যতালিকা অনুযায়ী ভ্যাটসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির সোনার নতুন দাম নিম্নরূপ:
২২ ক্যারেট সোনা: প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার শিলিং ৮৫৮ টাকা (গতকাল পর্যন্ত ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা)।
২১ ক্যারেট সোনা: প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা।
১৮ ক্যারেট সোনা: প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা।
সনাতন পদ্ধতির সোনা: প্রতি ভরি ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।
এর আগে গত ২৩ অক্টোবর বাজুস প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করেছিল। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ১২৬ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে; যার মধ্যে ৬০ দফা দাম বাড়ানো এবং ৬৫ দফা কমানো হয়েছে (এক দফা ভ্যাট সমন্বয়সহ)। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল।
রুপার দাম অপরিবর্তিত
সোনার দাম কমলেও দেশের বাজারে রুপার দাম সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী বর্তমান রুপার বাজারদর হলো:
২২ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা।
২১ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৩ টাকা (অথবা ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা)।
১৮ ক্যারেট রুপা: প্রতি ভরি ৩ হাজার ১৪৯ টাকা।
সনাতন পদ্ধতির রুপা: প্রতি ভরি ২ হাজার ৩৯১ টাকা।
জুয়েলারি খাতের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণালংকারের ডিজাইন বা নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। পাশাপাশি মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে স্বর্ণালঙ্কার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো সোনা কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। তবে এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে।
পড়ুন : ডিসেম্বর ঘিরে অস্থিরতার চেষ্টা, নিরাপত্তার ফাঁক গলে সক্রিয় কারা?
সা/


