দ্বিতীয় দফার ভোট গণনার অন্তিম পর্যায়ে এসে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো জয় নিশ্চিত করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো অত্যন্ত অল্প ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে পরাজিত হয়েছেন।
বাংলাদেশ সময় সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোর সোয়া ছয়টায় আলজাজিরার প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী তখন ৯৮ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছিল। এর মধ্যে লুলা পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ভোট এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো অর্জন করেছেন ৪৮ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট। ভোটের এই সামান্য ব্যবধানের কারণে দুই শিবিরেই চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল এবং সবাইকে চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।
উল্লেখ্য, পরাজিত প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোর বাবা হলেন ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো, যাকে গত নির্বাচনে পরাজিত করে বামপন্থি নেতা লুলা ক্ষমতায় এসেছিলেন। বিশ্ব রাজনীতিতে কট্টর ফিলিস্তিনপন্থি নেতা হিসেবে লুলার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা এবং লুলার নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করার অভিযোগ ওঠায় বিভিন্ন আইনি জটিলতায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। বাবার পরিবর্তে তাঁরই ছেলে তথা সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো নির্বাচনে লড়লেও শেষ পর্যন্ত তাকে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে।
গত ৪ অক্টোবর ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কোনো প্রার্থীই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট নিশ্চিত করতে না পারায় নির্বাচন গড়ায় দ্বিতীয় দফায়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম পর্বে এগিয়ে থাকা শীর্ষ দুই প্রার্থীই কেবল এই রানওয়েল বা দ্বিতীয় দফায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রথম দফায় ফ্লাভিও বলসোনারো সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় দফার লড়াইয়ে তাকে পেছনে ফেলে জয় ছিনিয়ে নেন লুলা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্যমতে, ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম ব্রাজিলের কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রথম দফায় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থী দ্বিতীয় দফার ভোটে পরাজিত হলেন।
মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সালে লুলার পূর্ববর্তী মেয়াদেই লাতিন আমেরিকার প্রথম দেশ হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল ব্রাজিল। পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গাজায় চলমান গণহত্যার জন্য সরাসরি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে দায়ী করে আসছেন লুলা। এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে লুলা মন্তব্য করেছিলেন, “গাজার এই সহিংসতা ও ট্রমা ফিলিস্তিনিদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বয়ে বেড়াতে হবে।” এছাড়া, ইসরায়েলি সামরিক অভিযানকে হিটলারের ইহুদি নিধনের (হলোকোস্ট) সঙ্গে তুলনা করায় ইসরায়েল তাকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা অবাঞ্ছিত ব্যক্তি ঘোষণা করে। এর প্রতিক্রিয়ায় তেল আবিব থেকে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতকে স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করে নেন লুলা।
পড়ুন : চার দিনের সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
সা/


