দুর্গাপুরে দ্রুতগতির ইজিবাইকের ধাক্কায় পথচারী নারীর মৃত্যু

হয়তো কোনো জরুরি কাজেই ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। পথ চলতে চলতে মনে বুনছিলেন ঘরে ফেরার তাড়া। গন্তব্যে আর পৌঁছানো হলো না তার। নেত্রকোনার দুর্গাপুরের গ্রামীণ সড়কে দ্রুতগতির ইজিবাইকের ধাক্কায় মুহূর্তেই নিভে গেল পঞ্চাশোর্ধ্ব এক নারীর জীবনপ্রদীপ। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, আকস্মিক মৃত্যুর পরও তার পরিচয় কেবলই ‘অজ্ঞাত’। তার নিথর দেহটি উদ্ধার হলেও, কোনো স্বজনের কাছে এখনো পৌঁছায়নি চিরবিদায়ের খবর।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের বিরিশিরি-ডেউটুকুন সড়কের দাখিনাইল চৌরাস্তা এলাকায় ঘটে এই সড়ক দুর্ঘটনা। নিহত ওই নারীর বয়স আনুমানিক ৫০ বছর। স্থানীয়দের ধারণা, তিনি ওই পথেরই একজন সাধারণ পথচারী ছিলেন।

দুপুরের নীরবতা ভেঙে দাখিনাইল চৌরাস্তার সড়কে তখন স্বাভাবিক গতিতেই চলছিল জীবনযাত্রা। ব্যাটারিচালিত ওই ইজিবাইকটিতে চালক ছাড়াও ছিলেন তিনজন যাত্রী। তাদেরই একজন দিলরুবা। চোখের সামনে ঘটে যাওয়া সেই মর্মান্তিক মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান, ইজিবাইকটি দাখিনাইল চৌরাস্তা এলাকা পার হয়ে কেবলই কিছুটা সামনে এগিয়েছিল। ঠিক তখনই ওই নারী হঠাৎ দৌড়ে সড়কের মাঝখানে চলে আসেন।

ইজিবাইকটির গতি বেশি থাকায় চালক তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দ্রুতগতির বাহনটি ওই নারীকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। একটি জলজ্যান্ত প্রাণ চোখের পলকে এভাবে নিস্তব্ধ হয়ে যাওয়ায় হতভম্ব হয়ে পড়েন ইজিবাইকের যাত্রী ও আশপাশের মানুষ।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তবে মানুষজন জড়ো হওয়ার আগেই পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান ইজিবাইকের চালক। স্থানীয়রা জানান, চালক পালিয়ে যাওয়ার পর ইজিবাইকটি ঘটনাস্থলের কাছেই এক বাড়ির সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। একদিকে সড়কে পড়ে থাকা অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, অন্যদিকে মালিকহীন ইজিবাইক- সব মিলিয়ে দাখিনাইল চৌরাস্তা এলাকায় তৈরি হয় শোকাবহ ও থমথমে পরিবেশ।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে দুর্গাপুর থানা-পুলিশের একটি দল। তারা স্থানীয়দের সহায়তায় ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। আশপাশের কেউই তাকে চিনতে না পারায় তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম বা ঠিকানা জানা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে এবং মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতক চালককে খুঁজে বের করার পাশাপাশি পুলিশের জন্য এখন সবচেয়ে বড় কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করা।

সড়কের ধারে পড়ে থাকা ইজিবাইকটি এই ট্র্যাজেডির নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অন্যদিকে, কোনো এক অজানা গ্রামে হয়তো এই নারীর পথ চেয়ে বসে আছেন তার স্বজনেরা। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের এখন প্রত্যাশা- দ্রুতই যেন পরিচয় মেলে নামহীন এই মানুষটির, শেষবারের মতো যেন প্রিয়জনের মুখটি দেখার সুযোগ পান তার পরিবারের সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে মৎস্য প্রকল্পের খুঁটি-তার সরানোর অভিযোগ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন