টাঙ্গাইলে ৪১ বছর আগে স্বামীকে মিথ্যা হত্যা মামলার দায়ে স্ত্রীসহ ৩ জনের কারাদণ্ড

টাঙ্গাইলে ৪১ বছর আগে স্বামীকে হত্যার মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মামলা দায়ের করার অপরাধে স্ত্রীসহ ৩ জনকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া প্রত্যোককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। সোমবার টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ হাফিজুর রহমান এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ওমরপুর গ্রামের সুরমান আলীর স্ত্রী নূরজাহান খাতুন, একই গ্রামের সিরাজ মণ্ডল এবং কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সটিবাড়ী কদমতলী এলাকার মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে সুরমান আলী ওরফে সোলায়মান আলী।

বিজ্ঞাপন

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৫ সালের ২৫ নভেম্বর সুরমান আলীর স্ত্রী নূরজাহান খাতুন বাদি হয়ে তার স্বামীকে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর যমুনা নদী থেকে একটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হলে নূরজাহান সেটি তার স্বামী সুরমান আলীর লাশ বলে সনাক্ত করেন। ওই মিথ্যা মামলায় নিরপরাধ আসামীদের দীর্ঘদিন জেলহাজত খাটতে হয় এবং ফাঁসির ভয়ে জমি-জমা লিখে দিয়ে আপোষ করতে বাধ্য হতে হয়। পরে ১৯৯১ সালের ২৪ জুলাই মিথ্যা মামলা থেকে বেকুসুল খালাস হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে মামলার মূল ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন যে, সুরমান আলী মারা যাননি। তিনি নাম পরিবর্তন করে ‘সোলায়মান আলী’ নাম ধারণ করে কুড়িগ্রামের দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসার করছেন। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর ভুক্তভোগী পরিবার আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি পাল্টা মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্য গ্রহণ ও পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয় নূরজাহান খাতুন ও তার সহযোগীরা পূর্বের আসামীদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও সামাজিকভাবে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।

টাঙ্গাইল জজ কোর্টের সরকারি কৌশুলি (পিপি) শফিকুর ইসলাম রিপন বলেন, তদন্ত ও চার জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে প্রমাণিত হয় যে, যাকে মৃত বলে দাবি করা হয়েছিল সেই সুরমান আলী কুড়িগ্রাম জেলায় জীবিত ও সশরীরে বসবাস করছেন। পরে আদালত তিনজন আসামীকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার অপর ৯ জন আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন আদালত। রায়ের সময় প্রধান দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সুরমান আলী পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল রয়েছে।

আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন- মোহাম্মদ মীর মোশারফ হোসেন।

পড়ুন : মেহেরপুরে পুকুর মালিকের অবৈধ বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ গেল কৃষকের

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন