আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি ১৯ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল মিল মালিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন’। তবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখার বিষয় বিবেচনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আপাতত এই দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বব্যাপী মূল্যবৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে গত ১৩ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি পাঠায় সংগঠনটি। এরপর গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য—যেমন ভোজ্যতেল, ডিম, ডাল, ছোলা, খেজুর ও চিনির বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি তোলা হলে মন্ত্রী এ মুহূর্তে দাম বাড়াতে সম্মতি দেননি।
মিল মালিকদের পাঠানো প্রস্তাব অনুযায়ী:
বোতলজাত সয়াবিন তেল: ১ লিটারের বোতল ১৯৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১৮ টাকা এবং ৫ লিটারের বোতল ৯৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০ টাকা করার কথা বলা হয়।
খোলা সয়াবিন তেল: লিটারপ্রতি ১৮০ টাকা থেকে ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে সংগঠনের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম মোল্লা জানান, গত ছয় মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম প্রতি মেট্রিক টন ১ হাজার ৩২৫ ডলারে পৌঁছেছে। এই হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের প্রকৃত খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২৩৩ টাকা। এছাড়া জ্বালানি তেল, পরিবহন ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ব্যয় বেড়েছে। মূল্য সমন্বয় করা না হলে ভবিষ্যতে ভোজ্যতেল সরবরাহ ব্যাহত হয়ে রমজানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের সময় (যেখানে ১ লিটার বোতলজাত সয়াবিন ১৯৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০৪ টাকা এবং ৫ লিটারের বোতল ৯৭৫ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা করা হয়েছিল) সরকার দ্রুত আবারও দাম সমন্বয়ের আশ্বাস দিয়েছিল। সেই আশ্বাসে লোকসান সত্ত্বেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়েছিল।
ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজার ও খরচের অজুহাত দিলেও সরকারি উপাত্ত বলছে দেশে সয়াবিন ও ভোজ্যতেলের আমদানি পরিস্থিতি বেশ ইতিবাচক। প্রাপ্ত তথ্যমতে:
ভোজ্যতেল আমদানি: আলোচ্য সময়ে দেশে ৮ লাখ ২৩ হাজার মেট্রিক টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের (৭ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন) তুলনায় ১ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন বেশি।
এলসি খোলা: এ সময়ে ভোজ্যতেল আমদানির এলসি খোলা হয়েছে ৮ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন, যা আগের বছরের চেয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিক টন বেশি।
সয়াবিন বীজ: দেশে ৫ লাখ ১ হাজার মেট্রিক টন সয়াবিন বীজ আমদানি করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১ লাখ ১৩ হাজার মেট্রিক টন বেশি।
আমদানি ও এলসি খোলার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও ব্যবসায়ীদের দেওয়া দাম বাড়ানোর দাবির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে সরকার, যাতে সাধারণ ভোক্তারা রমজানের আগে বাড়তি চাপের মুখে না পড়েন।
পড়ুন : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠক, বাংলাদেশে কার্যালয় খোলার আহ্বান
সা/


