রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাগীগঞ্জে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মাটিভর্তি ডাম্প ট্রাকে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন যাত্রী, যাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত চিকিৎসকরা। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে বৈরাগীগঞ্জ শাহ আমানত পেট্রোল পাম্পের বিপরীত পাশে মাজার মসজিদের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীগামী ‘খান এন্টারপ্রাইজ’ (খান এক্সপ্রেস/খান পরিবহন)-এর একটি দ্রুতগামী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এরপর বাসটি আইল্যান্ডে গিয়ে আবার ধাক্কা লেগে এর সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের এক যাত্রীর মৃত্যু হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজন মারা যান।
দুর্ঘটনার বিষয়ে পীরগঞ্জের বড়দরগাহ হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘ফজরের নামাজের পর বৈরাগীগঞ্জ শাহ আমানত পেট্রোল পাম্পের বিপরীত পাশে মাজার মসজিদের সামনে মাটিভর্তি একটি ডাম্প ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীগামী খান এন্টারপ্রাইজের একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে এসে ট্রাকটির পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের এক যাত্রীর মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।’
নিহতদের মধ্যে এক ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার চন্দ্রখানা গ্রামের ওমর আলীর ছেলে মোজাফফর হোসেন। বাকি দুজনের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি; পুলিশ তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে।
দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাক আটক করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পড়ুন : দেশের বাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী, ভরিতে বাড়ল ২,২১৬ টাকা
সা/


