২২ বছরের ছোট অভিনেত্রীর সঙ্গে ‘রোমান্সে’ অস্বস্তিতে পড়েন নাসিরুদ্দিন

বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ পর্দায় বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। গম্ভীর চরিত্র থেকে শুরু করে রোমান্টিক কিংবা ব্যতিক্রমী ভূমিকায় তাঁর অভিনয় বরাবরই প্রশংসিত। তবে ক্যামেরার সামনে রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে একসময় অস্বস্তিতে পড়েছিলেন এই অভিনেতা। বিশেষ করে আশির দশকের জনপ্রিয় গান ‘তিরছী টোপিওয়ালে’-এর শুটিংয়ে নিজের চেয়ে প্রায় ২২ বছরের ছোট সহ-অভিনেত্রী সোনমের সঙ্গে রোমান্টিক নাচের দৃশ্য করতে গিয়ে বেশ নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই পুরোনো অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ১৯৮৯ সালের সুপারহিট ছবি ‘ত্রিদেব’-এর পরিচালক রাজীব রাই।

বিজ্ঞাপন

রাজীব রাই পরিচালিত ‘ত্রিদেব’ মুক্তির পর বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য পেয়েছিল। ছবিতে নাসিরুদ্দিন শাহের পাশাপাশি অভিনয় করেছিলেন সানি দেওল, জ্যাকি শ্রফ, মাধুরী দীক্ষিত ও সঙ্গীতা বিজলানির মতো তারকারা। ছবির গল্পের পাশাপাশি এর গানগুলোও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। বিশেষ করে ‘তিরছী টোপিওয়ালে’ গানটি আজও বলিউডের স্মরণীয় গানের তালিকায় জায়গা করে আছে।

তবে গানটির শুটিংয়ের পেছনে যে অভিনেতার অস্বস্তি ও পরিচালকের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের গল্প রয়েছে, তা অনেকেরই অজানা। সম্প্রতি সেই অভিজ্ঞতার কথা সামনে এনেছেন রাজীব রাই।

পরিচালক রাজীব রাইয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, ‘তিরছী টোপিওয়ালে’ গানের শুটিংয়ের সময় নাসিরুদ্দিন শাহ কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলেন। এর পেছনে দুটি কারণ কাজ করেছিল। প্রথমত, রোমান্টিক গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাচের দৃশ্যে অভিনয় করতে তিনি খুব একটা স্বচ্ছন্দ বোধ করছিলেন না। দ্বিতীয়ত, তাঁর বিপরীতে থাকা অভিনেত্রী সোনমের সঙ্গে বয়সের ব্যবধানও তাঁকে ভাবিয়ে তুলেছিল।

নাসিরুদ্দিন শাহ মূলত অভিনয়ের দক্ষতা ও চরিত্রের গভীরতা তুলে ধরার জন্য পরিচিত। কিন্তু রোমান্টিক গানের দৃশ্যে নাচের মুদ্রা, অভিব্যক্তি এবং সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে পর্দায় স্বাভাবিক রসায়ন তৈরি করা ছিল তাঁর জন্য আলাদা ধরনের চ্যালেঞ্জ। ফলে শুটিংয়ের আগে কীভাবে দৃশ্যগুলো করবেন, তা নিয়ে তাঁর মনে সংশয় তৈরি হয়েছিল।

রাজীব রাই জানান, অভিনেতা সরাসরি তাঁর কাছে নিজের অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন। কীভাবে এই ধরনের গানে পারফর্ম করবেন, তা নিয়ে নাসিরুদ্দিনের মনে দ্বিধা ছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিচালক তাঁকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন।

রাজীব রাই নাসিরুদ্দিন শাহকে বোঝান, রোমান্টিক গানের দৃশ্যকে অন্য কোনো কঠিন কাজ হিসেবে না দেখে অভিনয়ের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে নিতে। নাচের প্রতিটি মুদ্রা নিখুঁতভাবে করার চাপ না নিয়ে নিজের মতো করে সহজভাবে দৃশ্যগুলো উপস্থাপন করার পরামর্শ দেন তিনি।

পরিচালকের মতে, অভিনয়ের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকতা অনেক সময় অতিরিক্ত নিখুঁত হওয়ার চেষ্টার চেয়ে বেশি কার্যকর। তাই নাসিরুদ্দিনকে নিজের অভিনয়দক্ষতার ওপর আস্থা রাখতে বলেন তিনি। সেই আশ্বাসে ধীরে ধীরে স্বচ্ছন্দ হয়ে ওঠেন অভিনেতা।

একজন দক্ষ অভিনেতার কাছেও নতুন ধরনের দৃশ্যে কাজ করতে গিয়ে যে সংশয় তৈরি হতে পারে, নাসিরুদ্দিনের এই অভিজ্ঞতা তারই উদাহরণ। পর্দায় আত্মবিশ্বাসী অভিনয় দেখা গেলেও শুটিংয়ের নেপথ্যে শিল্পীদের নানা ধরনের দ্বিধা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। ‘ত্রিদেব’-এর এই গানের অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে।

নাসিরুদ্দিন শাহের অস্বস্তির আরেকটি কারণ ছিল তাঁর ও সোনমের বয়সের ব্যবধান। পরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিষয়টি নিয়ে অভিনেতা বেশ খোলামেলাভাবেই কথা বলেছিলেন।

চিত্রনাট্য ও দৃশ্য নিয়ে আলোচনার সময় নাসিরুদ্দিন রাজীব রাইকে জানিয়েছিলেন, তাঁর প্রথম পক্ষের মেয়ে হিবা শাহের বয়স সোনমের চেয়েও বেশি। অর্থাৎ পর্দায় যাঁর সঙ্গে তাঁকে রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয় করতে হবে, বাস্তব জীবনে সেই অভিনেত্রীর চেয়ে বয়সে অনেক ছোট একজন সন্তান তাঁর রয়েছে। এই বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে পরিচালককে প্রশ্ন করেছিলেন, পর্দায় তাঁদের জুটিকে মানাবে কি না।

বিষয়টি নিয়ে রাজীব রাই অবশ্য খুব বেশি চিন্তিত ছিলেন না। তাঁর কাছে পর্দায় দুই অভিনেতার উপস্থিতি, চরিত্রের উপস্থাপন এবং দর্শকের কাছে তাঁদের গ্রহণযোগ্যতাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাই নাসিরুদ্দিনকে তিনি স্পষ্ট করে জানান, পর্দায় তাঁদের দুজনকে মানানসই দেখানোই আসল বিষয়।

পরিচালকের এই বক্তব্য অভিনেতার দ্বিধা কাটাতে সাহায্য করেছিল। বয়সের ব্যবধান নিয়ে ব্যক্তিগত অস্বস্তি থাকলেও পেশাদার অভিনয়ের জায়গায় কীভাবে সেটিকে সামলাতে হয়, সেই অভিজ্ঞতাও হয়েছিল তাঁর।

১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ত্রিদেব’ বলিউডের উল্লেখযোগ্য অ্যাকশন-থ্রিলার ছবিগুলোর একটি। ছবিতে একাধিক জনপ্রিয় তারকার উপস্থিতি দর্শকদের আকৃষ্ট করেছিল। একই সঙ্গে এর সংগীতও ছবিটির সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

‘তিরছী টোপিওয়ালে’ গানটি মুক্তির সময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। গানটির সুর, দৃশ্যায়ন এবং শিল্পীদের উপস্থিতি দর্শকদের মনে জায়গা করে নেয়। সময়ের ব্যবধান পেরিয়েও গানটি বলিউডের পুরোনো জনপ্রিয় গানের আলোচনায় ফিরে আসে।

নাসিরুদ্দিন শাহের মতো একজন শক্তিশালী অভিনেতা রোমান্টিক গানের দৃশ্যে অস্বস্তি বোধ করেছিলেন—এই তথ্য ভক্তদের কাছে নিঃসন্দেহে কৌতূহলোদ্দীপক। কারণ, পর্দায় তাঁর অভিনয় দেখে অনেক সময় বোঝার উপায় থাকে না যে দৃশ্যটি ধারণ করতে গিয়ে কতটা প্রস্তুতি বা মানসিক দ্বিধার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে।

রাজীব রাইয়ের সাম্প্রতিক এই স্মৃতিচারণ তাই শুধু একটি জনপ্রিয় গানের শুটিংয়ের নেপথ্য গল্প নয়, বরং অভিনেতা ও পরিচালকের পারস্পরিক বোঝাপড়ারও উদাহরণ। পরিচালকের পরামর্শ এবং নিজের অভিনয়দক্ষতার ওপর আস্থা রেখে শেষ পর্যন্ত সেই অস্বস্তি কাটিয়ে উঠেছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ। আর ‘তিরছী টোপিওয়ালে’ থেকে গেছে বলিউডের স্মরণীয় গানগুলোর একটি হিসেবে।

পড়ুন:‘আমি দুঃখিত, আমার ভুল হয়েছে’, রাশমিকাকে নিয়ে জাভেদ

ইমি/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন