সাইবার পুলিশের দ্বারস্থ বিজয়-রাশমিকা

অনলাইনে লাগাতার ট্রলিং, অপপ্রচার ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন ভারতের জনপ্রিয় তারকা জুটি বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। সম্প্রতি হায়দরাবাদ সাইবার ক্রাইম পুলিশের কাছে তাঁদের প্রতিনিধি দল লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য, বিকৃত স্ক্রিনশট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার চালানোর অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

বিজয় ও রাশমিকার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক একটি সাক্ষাৎকারের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে ট্রলিং শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথে হাঁটলেন এই তারকা জুটি।

ঘটনার সূত্রপাত জনপ্রিয় টক শো ‘কফি উইথ করণ’-এ রাশমিকার দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। সাক্ষাৎকারে নিজের সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, বিজয় দেবরাকোন্ডাকে বিয়ের জন্য রাজি করাতে তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করতে হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর ধরে তিনি বিজয়কে প্রায় ১০০ বার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

সাক্ষাৎকারের এই বক্তব্যের কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় নানা ধরনের মন্তব্য ও ট্রলিং। নেটিজেনদের একাংশ বিষয়টি নিয়ে হাস্যরসাত্মক পোস্ট করতে থাকেন। অন্যদিকে, কেউ কেউ বিজয়কে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। এমনকি তাঁকে ‘রেড ফ্ল্যাগ হাসবেন্ড’ বলেও কটাক্ষ করা হয়।

একটি সাক্ষাৎকারের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং নেতিবাচক প্রচার ছড়িয়ে পড়ায় তারকা জুটির পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তাঁদের প্রতিনিধি দলের দাবি, বিষয়টি আর সাধারণ সমালোচনা বা হাস্যরসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং পরিকল্পিতভাবে ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।

বিজয় ও রাশমিকার প্রতিনিধি দলের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার চালানোর পেছনে কোনো বিশেষ মহলের পরিকল্পনা থাকতে পারে। তাঁদের দাবি, অর্থ ব্যয় করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন পোস্ট ছড়ানো হচ্ছে, যাতে জনসমক্ষে তাঁদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু পোস্টে বিকৃত স্ক্রিনশট এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কনটেন্টের মাধ্যমে বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ বদলে দেওয়া কিংবা ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চলছে বলে তাঁদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

তবে এই অভিযোগের পেছনে কারা রয়েছে, কিংবা সত্যিই কোনো সংগঠিত প্রচারচক্র কাজ করছে কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের বিষয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় বিজয় ও রাশমিকার প্রতিনিধি দল হায়দরাবাদ সাইবার ক্রাইম পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে। লিখিত অভিযোগে অনলাইনে অপপ্রচার চালানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশের অধিকার সবার রয়েছে। তবে সেই অধিকার ব্যবহার করে কাউকে অপমান করা, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো কিংবা ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

তাঁদের বক্তব্য, তারকা হওয়ার কারণে কোনো ব্যক্তিকে অনলাইনে লাগাতার আক্রমণ কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা হতে পারে, কিন্তু সেটি যেন হয়রানি বা মানহানির পর্যায়ে না পৌঁছায়।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তারকাদের সঙ্গে ভক্তদের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একই সঙ্গে এসব প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত আক্রমণ, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও বাড়ছে। অনেক সময় কোনো বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত অংশ ছড়িয়ে পড়লে তার মূল প্রেক্ষাপট আড়ালে থেকে যায়। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।

বিজয়-রাশমিকার ঘটনা সেই বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। তাঁদের প্রতিনিধি দলের অবস্থান হলো, সমালোচনা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রেখেও অন্যের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। কারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অপমানজনক ভাষা ব্যবহার কিংবা মিথ্যা তথ্য প্রচার করা উচিত নয়।

বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের পাশাপাশি হিন্দি চলচ্চিত্রেও পরিচিত মুখ। তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ থাকলেও সাম্প্রতিক বিতর্কে ব্যক্তিগত আক্রমণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এখন দেখার বিষয়, সাইবার পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগের পর তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না। তবে এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, অনলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীল আচরণ ও ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রতি সম্মান বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

পড়ুন:‘আমি দুঃখিত, আমার ভুল হয়েছে’, রাশমিকাকে নিয়ে জাভেদ

ইমি/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন