বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মানবাধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রদূত আইরিন খানের

আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ ও বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মানবাধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘দ্য পলিটিক্যাল ইকোনমি অব হিউম্যান রাইটস’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক সংলাপে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই আহ্বান জানান।

প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল্যায়ন নিয়ে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান বলেন, “অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রকৃত মানদণ্ড কেবল প্রবৃদ্ধি নয়; বরং তা মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, বৈষম্য হ্রাস এবং মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কতটা ভূমিকা রাখছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।”

এ লক্ষ্যে তিনি ন্যায্য করব্যবস্থা, সাশ্রয়ী উন্নয়ন অর্থায়ন, টেকসই ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর জরুরি সংস্কারের ওপর জোর দেন।

সংলাপে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা ক্রমেই অল্পসংখ্যক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। পাশাপাশি সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য মানবাধিকার সুরক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা জানান, বিভিন্ন সংঘাত, ঋণ পরিশোধের পেছনে অতিরিক্ত ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যমান এসব সংকট মোকাবিলা, কাঠামোগত বৈষম্য নিরসন এবং ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক করব্যবস্থা, ঋণ পুনর্গঠনে ন্যায্যতা, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের কার্যকর অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাংলাদেশ, মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং উরুগুয়ের জাতিসংঘ স্থায়ী মিশনের যৌথ উদ্যোগে উচ্চপর্যায়ের এ সংলাপটি আয়োজিত হয়। এতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি এবং মানবাধিকার ও উন্নয়নবিষয়ক বিশারদরা অংশ নেন। আলোচনায় ২০৩০-পরবর্তী বৈশ্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থার সংস্কারে মানবাধিকারকে মূলভিত্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

পড়ুন :

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন