ইংলিশ কারাবাও কাপের শেষ আট নিশ্চিত করেছে লিভারপুল ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর পেনাল্টি শুটআউটে চেলসিকে ৬-৫ ব্যবধানে হারিয়েছে লিভারপুল। অন্যদিকে, ব্রাইটনের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ম্যানচেস্টার সিটি। দুই ম্যাচেই গোলরক্ষকদের নৈপুণ্য এবং পেনাল্টির উত্তেজনা ছিল আলোচনার কেন্দ্রে।
অ্যানফিল্ডে লিভারপুল ও চেলসির লড়াইয়ে নির্ধারিত সময়ের দুই গোলই এসেছে পেনাল্টি থেকে। ম্যাচের ৪০তম মিনিটে রায়ান গ্রাভেনবার্খের ফাউলে পেনাল্টি পায় চেলসি। স্পটকিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মর্গান রজার্স।
তবে সেই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। মাত্র তিন মিনিট পর ওয়েসলি ফোফানার হ্যান্ডবলের কারণে পেনাল্টি পায় লিভারপুল। স্পটকিক থেকে গোল করে সমতা ফেরান কোডি গাকপো। প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুই দলই আক্রমণে গতি বাড়ালেও আর গোলের দেখা পায়নি।
বিরতির পর জয়সূচক গোলের জন্য দুই দলই চেষ্টা চালায়। লিভারপুলের একাধিক আক্রমণ সামাল দেন চেলসির গোলরক্ষক মাইক পেন্ডার্স। অন্যদিকে, লিভারপুলের গোলরক্ষক জর্জি মামারদাশভিলিও চেলসির কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে আর গোল না হওয়ায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে।
পেনাল্টি শুটআউটে দুই দলই একাধিকবার গোল করতে ব্যর্থ হয়। চেলসির ভ্যালেন্তিন বারকোর শট পোস্টে লাগে। লিভারপুলের কোস্তাস সিমিকাসও পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি। এ ছাড়া লিভারপুলের রায়ান গ্রাভেনবার্খের শট ঠেকিয়ে দেন পেন্ডার্স।
অন্যদিকে, চেলসির ইমানুয়েল এমেগার শট রুখে দিয়ে লিভারপুলকে লড়াইয়ে রাখেন মামারদাশভিলি। পরে জো গোমেজ পেনাল্টি থেকে গোল করেন। চেলসির হয়ে ওয়েসলি ফোফানা শেষ শটটি নিতে গিয়ে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠান। তাতেই ৬-৫ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় লিভারপুলের।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে কারাবাও কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় অলরেডরা। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ বোর্নমাউথ।
ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ব্রাইটনের বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরে আসে ম্যানচেস্টার সিটি। তবে নির্ধারিত সময়ে দুইবার পিছিয়ে পড়া দলকে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারের মাধ্যমে জয় তুলে নিতে হয়।
ম্যাচের ৩০তম মিনিটে জর্জিনিও রুটারের পাস থেকে গোল করে ব্রাইটনকে এগিয়ে দেন মালিক ইয়ালকুয়ে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে, ৪১তম মিনিটের কাছাকাছি, দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরান সিটির মিডফিল্ডার মাতেও কোভাচিচ।
বিরতির পর আবারও এগিয়ে যায় ব্রাইটন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জাওয়েন হাজদামের কাটব্যাক থেকে গোল করেন রুটার। এরপর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও সিটির গোলরক্ষক জেরোনিমো রুল্লির দৃঢ়তায় সফল হতে পারেনি সফরকারীরা।
ম্যাচের ৭২তম মিনিটে রায়ান শেরকির ফ্রি-কিক থেকে পা ছুঁইয়ে গোল করেন ভিতর রেইস। এতে ২-২ সমতায় ফেরে ম্যানচেস্টার সিটি। নির্ধারিত সময়ের বাকি অংশে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে ম্যানচেস্টার সিটির জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন গোলরক্ষক জেরোনিমো রুল্লি। ব্রাইটনের ইয়াসিন আয়ারি ও লুইস ডাঙ্কের পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন তিনি। তাঁর এই নৈপুণ্যেই ৪-৩ ব্যবধানে শুটআউট জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
শেষ আটে সিটির প্রতিপক্ষ লিগ ওয়ানের দল ব্র্যাডফোর্ড সিটি। ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। ফলে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে পরবর্তী ধাপে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে পেপ গার্দিওলার দল।
দুই ম্যাচের ফলাফলে স্পষ্ট, কারাবাও কাপের শেষ আটে উঠতে লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার সিটিকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সমতা ভাঙতে না পারলেও টাইব্রেকারে স্নায়ুর চাপ সামলে জয় তুলে নেয় দুই দলই। এখন কোয়ার্টার ফাইনালে বোর্নমাউথ ও ব্র্যাডফোর্ড সিটির বিপক্ষে জিতে সেমিফাইনালে ওঠাই তাদের পরবর্তী লক্ষ্য।
পড়ুন:বিশ্বকাপের মাঝপথে সেই দুঃস্বপ্নের স্মৃতিচারণ করলেন রোমেরো
ইমি/


