বিশ্বকাপের মাঝপথে সেই দুঃস্বপ্নের স্মৃতিচারণ করলেন রোমেরো

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও সমালোচনার জবাব দিয়েছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ান ‘কুতি’ রোমেরো। ফাইনালের ফল নিয়ে ওঠা বিভিন্ন গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি স্পেনকে শিরোপার যোগ্য দল হিসেবে স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে পুরো বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের চোট ও শারীরিক সমস্যার কারণে কতটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তা-ও তুলে ধরেছেন এই ডিফেন্ডার।

বিজ্ঞাপন

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের সাংবাদিক লস এদুলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোমেরো বলেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিত্তিহীন কথাবার্তাকে তাঁরা গুরুত্ব দেন না। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কোনো অযৌক্তিক দাবি প্রকাশ করলেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এসব আলোচনার সঙ্গে মাঠের বাস্তবতার মিল নাও থাকতে পারে।

ফাইনালের পারফরম্যান্স নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে রোমেরো বলেন, স্পেন দারুণ ফুটবল খেলেছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা দল শারীরিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত অবস্থায় ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি। পুরো টুর্নামেন্টেই খেলোয়াড়দের চোট ও ফিটনেস সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে দলকে অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

বিশ্বকাপজুড়ে দলের একাধিক খেলোয়াড় চোটে ভুগেছেন বলে জানিয়েছেন রোমেরো। লিয়ান্দ্রো পারেদেস পাঁজরের চোট নিয়ে খেলেছেন। নিজেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর অ্যাকিলিস টেন্ডনের সমস্যায় পড়েছিলেন। একই ধরনের শারীরিক সমস্যায় ছিলেন লিচা ও মলিও। নিকোলাস তাগলিয়াফিকোও পুরোপুরি ফিট ছিলেন না। অন্যদিকে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ ভাঙা আঙুল নিয়েও মাঠে নেমেছিলেন বলে জানান তিনি।

রোমেরোর মতে, এসব সমস্যার মধ্যেও দলের খেলোয়াড়েরা নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাই ফাইনালে হারলেও খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতা যে দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছিল, সেটিও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

সামাজিক মাধ্যমে খেলোয়াড়দের নিয়ে সমালোচনা এবং বিভিন্ন পরিচিত ব্যক্তির মন্তব্য প্রসঙ্গে রোমেরো বলেন, কে কী বলছেন, তা নিয়ে তাঁর বিশেষ মাথাব্যথা নেই। নিজের কাছে সৎ থাকা এবং শেষ মিনিট পর্যন্ত দলের জন্য সর্বোচ্চটা দেওয়াই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, গত ছয়-সাত বছর ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছেন, দলের খেলোয়াড়েরা সবসময় নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বাইরের সমালোচনা কিংবা কনটেন্ট তৈরির উদ্দেশ্যে করা নেতিবাচক মন্তব্য তাঁদের মনোযোগ নষ্ট করতে পারে না বলেও ইঙ্গিত দেন এই ডিফেন্ডার।

বিশ্বকাপের আগে হাঁটুতে চোট পাওয়ার ঘটনাটিও সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেন রোমেরো। সেই সময় তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো বিশ্বকাপে আর খেলা হবে না। চোটের আশঙ্কায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রোমেরো। তাঁর মতে, চোটের পরও কোচ তাঁর ওপর আস্থা রেখেছিলেন। অন্য কোনো কোচ হলে হয়তো তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন।

রোমেরো জানান, হাঁটুতে চোট পাওয়ার পর তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন। প্রথমে তাঁর মনে হয়েছিল, চোটটি অনেক বেশি গুরুতর এবং বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেতে হবে। তবে দুই দিন পর স্ক্যান করানোর পর পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছুটা আশ্বস্ত হন তিনি। পরীক্ষায় লিগামেন্টের সমস্যা ধরা পড়লেও শেষ ষোলো কিংবা কোয়ার্টার ফাইনালের মধ্যে মাঠে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত সেই চোট কাটিয়ে খেলতে পারাকে নিজের স্বপ্নপূরণ হিসেবে দেখছেন রোমেরো। তাঁর ভাষায়, কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হলেও কোচ ও সতীর্থদের আস্থার প্রতিদান দিতে পেরেছেন তিনি। প্রতিটি ম্যাচেই নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

ফাইনালের আগে নিজের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে রোমেরো জানান, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর তাঁর অ্যাকিলিস টেন্ডনে সমস্যা দেখা দেয়। সেই সমস্যা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ফাইনালের আগে বেশির ভাগ দিনই তিনি ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারেননি।

ব্যথানাশক বড়ি ও ইনজেকশন নিয়ে ফাইনালে খেলতে নেমেছিলেন বলে জানান আর্জেন্টাইন এই ডিফেন্ডার। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে তাঁর শরীর আর সেভাবে সাড়া দিচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ফাইনাল খেলতে হওয়ায় নিজের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ কাজ করছিল বলেও জানান তিনি।

রোমেরো বলেন, একজন ফুটবলার সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে চান। বিশেষ করে বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো ম্যাচের সুযোগ বারবার আসে না। তবে শারীরিক সমস্যার কারণে যদি মনে হতো, তাঁর উপস্থিতি দলের ক্ষতি করছে কিংবা প্রতিপক্ষকে আটকাতে পারছেন না, তাহলে নিজেই সরে দাঁড়াতেন। সে ক্ষেত্রে তাঁর জায়গায় আরও ভালোভাবে খেলতে সক্ষম কোনো সতীর্থকে সুযোগ দেওয়ার পক্ষে ছিলেন তিনি।

তবে নিজের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে মাঠে নামার মতো প্রস্তুতি অনুভব করেছিলেন বলেই ফাইনালে খেলতে চেয়েছিলেন রোমেরো।

সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিতর্কের জবাবে রোমেরো দলের লড়াই, খেলোয়াড়দের চোট এবং নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে স্পেনের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, ফলাফল নিয়ে অযৌক্তিক বিতর্কের চেয়ে মাঠের বাস্তবতা ও খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

পড়ুন:মিরপুর টেস্টে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের

ইমি/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন