বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তার ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। গত ২৯ অক্টোবর রাতে মোহাম্মদপুর থেকে দীপকে আটক করা হয় এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দীপকে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পিবিআই। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তারা ওই এলাকায় যাওয়ার পর পুলিশের ইউনিফর্ম পরা দু’জনের ধাওয়ায় তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন এবং তিনি নিজেও ভয়ে পালিয়ে যান। তবে দীপের কথায় একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। তারা সেখানে কেন গিয়েছিলেন এবং রাতের চলাফেরা নিয়ে তিনি একেক সময় একেক রকম তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া ঘটনার রাতে অন্য কেউ বা কোনো নারী উপস্থিত ছিলেন কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেননি। পিবিআই জানিয়েছে, তাহসিফের ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের কললিস্ট ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে দীপের ডাকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। সিসিটিভি ফুটেজেও তাদের একত্রে দেখা গিয়েছিল। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে টঙ্গীর তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তাকে দাফন করা হয়। নিহত তাহসিফ সাঁতার জানতেন এবং পাইলট প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে তার সাঁতারের কোর্স করা ছিল বলে জানান তার পরিবার। ফলে ‘পুলিশের ধাওয়ায় ভয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুর’ দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তিনি একে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
মামলা না করার কারণ ও পরিবারের অবস্থান
ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় এখনো মামলা না করার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, আইনি ঝামেলা ও আদালতে দৌড়াদৌড়ির ঝামেলার মধ্যে পড়তে চান না তারা। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম ও দায়িত্ববোধের ওপর আস্থা রেখে তিনি বিশ্বাস করেন সরকার নিজেই এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। বর্তমানে নৌ পুলিশ মূল মামলাটি তদন্ত করছে এবং পিবিআইয়ের ছায়া তদন্তে পাওয়া তথ্যগুলো তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভিসেরা রিপোর্ট ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে আসার পরই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পড়ুন : পাবনার মালঞ্চিতে বজ্রপাতে শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু
সা/


