এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সুনামগঞ্জের দুটি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। প্রতিষ্ঠান দুটিতে মোট ৩৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করতে পারেনি একজনও। এর মধ্যে দোয়ারাবাজার উপজেলার মিতালী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে ২১ জন এবং দিরাই উপজেলার আলহাজ্ব আব্দুল মতলিব উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ১৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
তবে আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট দুই উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম প্রতিষ্ঠান দুটির নামই জানেন না। এমনকি উপজেলা দুটির এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কেও অবগত নন বলে জানিয়েছেন তিনি। দিরাইয়ের আলহাজ্ব আব্দুল মতলিব উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক লুৎফুর রহমান বলেন, ১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে কেউ পাস করতে পারেনি।
শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা ভর্তি হয়েছিল, তারা কখনো ক্লাসে আসেনি। এ বিষয়ে অভিভাবকদের জানাতে আমি বাড়ি বাড়ি গিয়েছি। নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থেকেও শিক্ষার্থীরা কীভাবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেল, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থীরা নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল। এ কারণে তাদের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এদিকে, প্রতিষ্ঠান দুটিতে কেন কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, তা জানতে পরিচালনা কমিটির সদস্যদের রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম। সেখানে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাওয়া হবে।
অন্যদিকে, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতিষ্ঠান দুটির নাম ও পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে অবগত না থাকার বিষয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পাঠদানের মানোন্নয়ন এবং শিক্ষা কার্যক্রমের যথাযথ তদারকির ঘাটতি কোথায়, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
পড়ুন : দিনাজপুরে মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলনে নতুন রেকর্ড


