পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালাল দুজন, গাঁজাসহ ধরা পড়ল একজন

পৌর শহরের কোলাহল পেরিয়ে ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত নয়টা পেরিয়েছে। চারপাশের মানুষ যখন সারাদিনের ক্লান্তি শেষে ঘরে ফেরার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে মদন পৌরসভার একটি ভাড়া বাসার সামনে জমে উঠেছিল মাদকের গোপন কারবার। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশের ঝটিকা অভিযানে ভেস্তে গেছে সেই আসর। আধা কেজি গাঁজা এবং মাদক বিক্রির নগদ অর্থসহ হাতেনাতে ধরা পড়েছেন মো. গোলাপ মিয়া (৫০) নামের এক ব্যক্তি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরের দিকে নেত্রকোনা জেলা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত গোলাপ মিয়া মদন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জাহাঙ্গীরপুর মিতালী রোড এলাকার মৃত শামছুদ্দিন ও সখিনা দম্পতির ছেলে। তিনি একই এলাকার মো. কদল মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

এ ঘটনায় জড়িত অপর দুই সহযোগী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। পলাতক আসামিরা হলেন- মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হাসনপুর গ্রামের মৃত আ. রাজ্জাক পুলিশ মিয়ার ছেলে মো. সাজু মিয়া (৫২) এবং একই গ্রামের মৃত আনফর আলীর ছেলে ফারুক মিয়া (৩৮)।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (রবিবার) রাতে মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টহল দল পৌরসভার দেওয়ান বাজার এলাকায় রাত্রিকালীন মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছিল। রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, জাহাঙ্গীরপুর মিতালী রোডে কদল মিয়ার ভাড়াটিয়া গোলাপ মিয়ার বসতঘরের সামনে তিন ব্যক্তি অবৈধভাবে গাঁজা কেনাবেচা করছে।

বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মদন থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) অবহিত করা হয়। ওসির নির্দেশনায় এসআই হাসানুর রহমানের নেতৃত্বে এএসআই মো. খোরশেদ আলম, এএসআই মো. লোকমান হেকিম এবং কনস্টেবল মো. শাহীনুর রহমান ও মো. পলাশ মিয়াকে নিয়ে গঠিত দলটি রাত ৯টা ২০ মিনিটে ঘটনাস্থলে হানা দেয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই মাদক কারবারিরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া করে গোলাপ মিয়াকে আটক করা সম্ভব হলেও অপর দুজন পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে আটক গোলাপ মিয়ার দেহ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে তার ডান হাতে থাকা একটি সাদা প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ থেকে সাদা কাগজে মোড়ানো ৬৯টি পুরিয়ায় ৪৪০ গ্রাম এবং সবুজ পলিথিনে মোড়ানো আরও ৬০ গ্রামসহ আধা কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া আসামির পরনে থাকা লুঙ্গির কোঁচড় থেকে মাদক বিক্রির নগদ সাত হাজার টাকা বের করে দেওয়া হয়, যার মধ্যে একটি এক হাজার টাকার নোট, চারটি ৫০০ টাকার নোট, ছয়টি ২০০ টাকার নোট, ছাব্বিশটি ১০০ টাকার নোট এবং চারটি ৫০ টাকার নোট ছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক গোলাপ মিয়া স্বীকার করেছেন, পলাতক সাজু মিয়া ও ফারুক মিয়ার পরস্পর যোগসাজশে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গাঁজা ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিলেন। আটক আসামির কিছুদিন আগে শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে অস্ত্রোপচার হওয়ায়, পুলিশ মানবিক দিক বিবেচনা করে রাতেই তাকে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পরবর্তীতে তাকে নিয়ে পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ ঘটনায় এসআই হাসানুর রহমান বাদী হয়ে সোমবার (২ নভেম্বর) প্রথম প্রহরে (রাত ১২টা ১০ মিনিটে) আটক গোলাপ মিয়া এবং পলাতক দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে মদন থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর আওতায় নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাহ উদ্দিন করিম জানান, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আধা কেজি গাঁজা ও মাদক বিক্রির নগদ অর্থসহ গোলাপ মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা রুজু শেষে সোমবার দুপুরের দিকে তাকে জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার পলাতক অপর দুই আসামিকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পড়ুন : দ্রুত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার আভাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন