স্বামীহারা এক অসহায় মা, দুই প্রতিবন্ধী সন্তান আর মাথা গোঁজার একমাত্র আশ্রয়স্থল ছোট্ট একটি বসতঘর। সেই ঘরেই গভীর রাতে আগুনের ভয়াবহতা। প্রাণ বাঁচাতে দরজা খুলতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত টিনের বেড়া ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসতে হয়েছে সমিরুন্নেসা ও তাঁর মেয়েকে। শুধু অগ্নিকাণ্ড নয়, ঘরের বাইরে থেকে দরজায় তালা দেওয়ার অভিযোগ তুলে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ বলে সন্দেহ করছেন তিনি। এ ঘটনায় ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার ধামরাই উপজেলার খাতরা দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত ১টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং রাত ২টা ৩০ মিনিটে সম্পূর্ণ অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শেষ হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সমিরুন্নেসার স্বামী মারা গেছেন বহু আগে। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দুই সন্তানই বাক্প্রতিবন্ধী। স্বামীর মৃত্যুর পর অসহায় এই নারী দুই সন্তানকে নিয়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দিন পার করছিলেন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে সন্তানদের নিয়ে যে বসতঘরটিতে তাঁর জীবনসংগ্রাম চলছিল, অগ্নিকাণ্ডে সেই আশ্রয়স্থলও এখন বিপর্যস্ত।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে সমিরুন্নেসা জানান, সন্ধ্যায় ঘাস কেটে বাড়ি ফিরে গোসল শেষে মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। মধ্যরাতে হঠাৎ আগুনের তীব্র তাপে ঘুম ভেঙে যায়। উঠে দেখেন, ঘরের অর্ধেক অংশ আগুনে জ্বলছে। প্রাণ বাঁচাতে দরজার কাছে গিয়ে সেটি খোলার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে চিৎকার করেও কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের টিনের বেড়া লাথি মেরে ভেঙে কোনোমতে মেয়েকে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
সমিরুন্নেসার অভিযোগ, ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল। তাঁর সন্দেহ, পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়ে থাকতে পারে। তবে কে বা কারা দরজায় তালা দিয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
অগ্নিকাণ্ডের পর পরিবারটির দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দুই প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে নতুন করে আশ্রয় ও জীবনযাপনের অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এই স্বামীহারা মা। যে ঘরটুকু ছিল তাঁর সন্তানদের নিরাপদ আশ্রয়, সেটিও এখন আগুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত।
এ ঘটনায় ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, বাইরে থেকে তালা দেওয়ার অভিযোগ যাচাই এবং ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। পাশাপাশি অসহায় প্রতিবন্ধী পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
পড়ুন : পূর্বধলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে মদ্যপ অবস্থায় যুবকের সাজা


